জ্বালানি সংকটের মুখে ভারত! রাশিয়া ও ইউএই থেকে রেকর্ড তেল আমদানি, মজুদ বাড়াতে মরিয়া শোধনাগারগুলো!

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির অস্থিরতার মধ্যেই নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে ভারত। কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে ভারত রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশীয় শোধনাগারগুলো পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
আমদানির সাম্প্রতিক চিত্র
রাশিয়া: মে মাসের দৈনিক ১৯.১ লক্ষ ব্যারেল থেকে বেড়ে জুন মাসে তা দাঁড়িয়েছে গড়ে ২৬.৬ লক্ষ ব্যারেল (বিপিডি)। রাশিয়া বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দৈনিক ৬৩.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করা হয়েছে, যা গত মে মাসের রেকর্ড ৬৪.৪ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি।
ভেনেজুয়েলা: দৈনিক ২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল আমদানি নিয়ে ভেনেজুয়েলা এখন ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে।
অন্যান্য: সৌদি আরব থেকে আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩৮.৪ মিলিয়ন ব্যারেল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৯১,০০০ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
কেন এই পরিবর্তন?
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক। হরমুজ প্রণালী, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করে, সেটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে সাময়িক বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা লেগেছিল। সেই অনিশ্চয়তা কাটাতে ভারত তার উৎস বৈচিত্র্যময় (Diversified) করার কৌশল নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে পাওয়া আকর্ষণীয় ‘ডিসকাউন্ট’ এবং ইউএই থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভারত নিজের শোধনাগারগুলোর চাহিদা মেটাচ্ছে। কেপলারের মডেলিং বিশেষজ্ঞ সুমিত রিতোলিয়ার মতে, জুন মাসে রাশিয়া থেকে আমদানি ২৩.৫ লক্ষ ব্যারেল ছাড়িয়ে এক নতুন রেকর্ডের পথে রয়েছে।
এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের ভবিষ্যৎ
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে, তবুও এই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় কাটেনি। সুমিত রিতোলিয়া জানান:
“হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় এলপিজি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে। তবে এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।”
উল্লেখ্য যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পর ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি বাড়িয়েছে। যদিও এটি সরবরাহ নিরাপত্তা বাড়িয়েছে, তবে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে পরিবহন খরচ অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
ভারতের কৌশলগত অবস্থান
মার্চ মাস থেকেই ভারতীয় শোধনাগারগুলো আটলান্টিক অঞ্চল এবং ভেনেজুয়েলার মতো বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ভারত এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিশ্বজুড়ে সরবরাহের পথ প্রসারিত করছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ভারতকে বাড়তি স্বস্তি দেবে।