কাশীতে উন্নয়ন বনাম বিশৃঙ্খলা! বুলডোজারের আঘাতে ধূলিসাৎ নবনির্মিত রেস্তোরাঁ, তুঙ্গে বিতর্ক

পবিত্র নগরী কাশীকে অত্যাধুনিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে চলছে মেগা উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ অভিযানে প্রশাসনিক গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। শনিবার বারাণসীর গোলঘর স্কোয়ার ও সান্ধার মাঝে চলা উচ্ছেদ অভিযানে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলেন শহরবাসী। বুলডোজারের আঘাতে ভেঙে পড়ল সদ্য নির্মিত একটি রেস্তোরাঁ।
কী ঘটেছিল শনিবার?
বারাণসীর ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার-লেন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অবৈধ স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বুলডোজার চালকের চরম অবহেলার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিশাল এক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা লাগে। খুঁটিটি ছিটকে সরাসরি আছড়ে পড়ে পাশের ‘নবাবী জাইকা’ নামক রেস্তোরাঁটির ওপর।
আশ্চর্যের বিষয়, ওই দিনই ছিল রেস্তোরাঁটির জমকালো উদ্বোধনের দিন। খুঁটির আঘাতে রেস্তোরাঁর কাঁচ ও মূল কাঠামো সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মালিক রাজু আলী ও তাঁর কর্মীরা।
‘ভুলবশত হয়েছে’, পিডব্লিউডি-র সাফাই
ঘটনার পর পিডব্লিউডি (PWD) কর্মকর্তাদের সাথে রেস্তোরাঁ মালিকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। যদিও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল’ বলে দায় সারার চেষ্টা করেন এবং মালিককে পূর্ণ ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ব্যস্ত এলাকায় এমন বুলডোজার চালানো কতটা যুক্তিযুক্ত? এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা স্বাভাবিক হতে কয়েকদিন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উন্নয়নের রোলার নিচে কাশীর ঐতিহ্য
বারাণসীকে একটি আধুনিক মাল্টি-মোডাল হাবে পরিণত করতে বর্তমানে শহরজুড়ে অর্ধ ডজনেরও বেশি প্রকল্পের কাজ চলছে। এই উন্নয়নের বলি হতে হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী অনেক স্থাপনা:
ডাল মান্ডি: ১৭.৪ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করতে ভেঙে ফেলা হয়েছে ১৬০টিরও বেশি পুরনো ভবন।
কাশী স্টেশন সংস্কার: ৩,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের জন্য সরানো হয়েছে একাধিক মন্দির ও প্রাচীন মসজিদ।
গোলঘর-সান্ধা প্রকল্প: বুলডোজারের কবলে পড়েছে প্রাক্তন হকি অধিনায়ক পদ্মশ্রী মহম্মদ শহীদের পৈতৃক বাড়ি।
লাহারতারা-বিএইচইউ রোড: ঐতিহ্যবাহী ‘চাচি কচুরি’ ও ‘পেহলওয়ান লস্যি’-র মতো শহরের আইকনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন
উন্নয়ন জরুরি, কিন্তু সেই উন্নয়নের নামে কি ঐতিহ্য ও নাগরিক নিরাপত্তার সাথে আপস করা হচ্ছে? বিশেষ করে নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করে যেভাবে শহরজুড়ে বুলডোজার চালানো হচ্ছে, তাতে কাশীর সাধারণ মানুষ এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় ভুগছেন। বাণিজ্যের ক্ষতি ও নাগরিক জীবনের ভোগান্তি কি এই আধুনিকীকরণের ন্যায্য মূল্য—এই প্রশ্নই এখন কাশীর অলিগলিতে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।