সীমান্তে জলমগ্ন এসএসবি ক্যাম্প! উত্তাল বন্যায় জীবন বাজি রেখে ১৫ জওয়ানকে উদ্ধার করল বাহিনী

নেপাল ও সীমাঞ্চল অঞ্চলে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যার করাল গ্রাসে ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম সংকট। এরই মধ্যে কিষাণগঞ্জের বক্সারভিটা সীমান্ত চৌকিতে (BOP) বন্যার জল ঢুকে পড়ায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নজির গড়েছে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)।
কী ঘটেছিল সীমান্ত চৌকিতে?
ভারী বৃষ্টির ফলে হঠাত করেই বক্সারভিটা বিওপি-র জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্যাম্পটি একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়। সেখানে দায়িত্বরত ১৫ জন সেনার জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং গোপন সরকারি নথিপত্র জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়।
জীবন বাজি রেখে সাহসী অভিযান
বিপদের খবর পাওয়ার সাথে সাথে তৎপর হয় এসএসবি-র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট এম. ব্রজেন সিং-এর নির্দেশে রানিডাঙ্গা সেক্টর হেডকোয়ার্টার থেকে একটি বিশেষ ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল (RRT) পাঠানো হয়। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট বিনোদ কুমার দাসের নেতৃত্বে ২০ জন প্রশিক্ষিত জওয়ানের একটি দল প্রতিকূল স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
অভিযানের তীব্রতা সম্পর্কে জওয়ানরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে প্রতি মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি ছিল। তবে অসীম সাহসিকতার সাথে তারা প্রথমে সরকারি গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এরপর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আটকে পড়া ১৫ জন সেনাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে—হেডকোয়ার্টার নিম্বুগোরি ও বিওপি ল্যাংরাডুবাতে স্থানান্তরিত করা হয়।
সফল তদারকিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
পুরো উদ্ধার অভিযানটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন রানিডাঙ্গা সেক্টর হেডকোয়ার্টারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সঞ্জয় কুমার সারাঙ্গি এবং ৪১তম ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট বিবেক কুমার। জওয়ানদের এই দ্রুত পদক্ষেপ শুধু সহকর্মীদের প্রাণই বাঁচায়নি, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদকেও রক্ষা করেছে।
সীমান্ত সুরক্ষা থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সর্বক্ষেত্রেই এসএসবি-র এই অদম্য দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্ব আবারও সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। বন্যার এই দুর্দিনে কিষাণগঞ্জের সীমান্তে জওয়ানদের এই বীরত্বগাথা এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।