ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি! তেলের দাম কমল আন্তর্জাতিক বাজারে, সাধারণ মানুষ কি স্বস্তি পাবে পেট্রোল-ডিজেলে?

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ছিল চরম অস্থিরতা। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১২৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছিল বিশ্ববাসীর। তবে ১২ জুন আমেরিকা ও ইরান শান্তি চুক্তিতে (Iran-US Peace Deal) পৌঁছাতেই তেলের বাজারে বড়সড় পতনের খবর মিলেছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত ক্রুড অয়েলের দাম ৮০ ডলারের নিচে (১৬ জুন দাম ছিল ৭৮.৬৬ ডলার)। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ভারতের সাধারণ মানুষ কি তবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার অপেক্ষায় দিন গুনবেন?
সত্যিই কি সস্তায় তেল পাচ্ছে ভারত?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্ল্যানিং ও অ্যানালাইসিস সেলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আবহে মার্চ মাসে ক্রুড অয়েলের দাম রেকর্ড ১৪৬ ডলারে পৌঁছেছিল। এপ্রিল ও মে মাসেও সেই দাম ছিল যথাক্রমে ১১৪.৪৮ ডলার এবং ১০৬.২৩ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ভারত ব্যারেল প্রতি ৭০.৭০ ডলারে তেল কিনছিল। অর্থাৎ, বর্তমান দাম ৭৮.৬৬ ডলার হলেও তা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনো বেশি। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও, তা এখনও প্রাক-যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির তুলনায় সাশ্রয়ী পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
কেন কমছে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনই কমার সম্ভাবনা কম। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলোর ক্ষতি: যুদ্ধের সময়ে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে সময় প্রয়োজন। তেলের দাম কমার ফলে সংস্থাগুলো সেই ঘাটতি মেটানোর সুযোগ পাচ্ছে।
সরকারি রাজস্ব: গত মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল-ডিজেলে ১০ টাকা শুল্ক কমিয়েছিল। সেই শুল্ক ছাড়ের ফলে সরকারের যে বিশাল রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে।
দাম কমালে লাভ কার?
যদিও বর্তমানে দাম কমানোর ক্ষেত্রে সরকারি অনীহা রয়েছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন জ্বালানির দাম কমলে দীর্ঘমেয়াদে আখেরে সরকারেরই লাভ হতে পারে। তেলের দাম কমলে বাজারে ভোগ বা কনজামশন (Consumption) বাড়বে, যা থেকে পরোক্ষভাবে ট্যাক্স রেভেনিউ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া জ্বালানির দাম কমলে রিটেল মূল্যবৃদ্ধি (Retail Inflation) কমবে এবং খাদ্যপণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
শেষ কথা:
আন্তর্জাতিক বাজারে শান্তির আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনই কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সরকারের রাজস্ব ঘাটতি পূরণ এবং বিপণন সংস্থাগুলোর লোকসান সামাল দেওয়াটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দর দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে সরকার দাম কমানোর কথা ভাবতে পারে—এমনটাই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।