বাজেটে সুখবর পাবেন শিক্ষকরা? ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর দাবিতে জোরালো চাপ, তাকিয়ে গোটা রাজ্য!

নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতে চলেছে আগামী ২২ জুন। ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎসাহ তুঙ্গে, তেমনই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মধ্যেও কাজ করছে তীব্র কৌতূহল। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং শিক্ষকদের স্বাস্থ্য প্রকল্পের দাবি ঘিরে চর্চা এখন তুঙ্গে।

শিক্ষক মহলের দাবি ও নবান্নে আবেদন:
প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক—স্তরের সমস্ত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং লাইব্রেরিয়ানদের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এর আওতায় আনার দাবি বহু পুরনো। বর্তমান সরকারের কাছে এই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। জানা গেছে, গত ২৯ মে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং অর্থ সচিবের কাছে এই মর্মে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর কথায়, “বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘকাল এই দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। আমরা নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছি যে, আসন্ন রাজ্য বাজেটে বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের পাশাপাশি কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য প্রকল্পের ঘোষণা করা হবে।”

বাজেট নিয়ে কর্মীদের প্রত্যাশা:
২০০৮ সালে মূলত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসার সুবিধার জন্য এই হেলথ স্কিম চালু করা হয়েছিল এবং ২০১৪ সালে অবসরপ্রাপ্তরাও এর আওতাভুক্ত হন। এবার শিক্ষকদের দাবি, তাঁদেরও এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হোক। পাশাপাশি, সরকারি কর্মীদের একাংশ রাজ্য বাজেটে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় কোনো ‘সুখবর’-এর অপেক্ষায় রয়েছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ডিএ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

কেন এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা এই বাজেট থেকেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যপাল আরএন রবির ভাষণ দিয়ে ইতিমধ্যেই বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। এখন ২২ জুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের জন্য কী কী উপহার থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *