দিল্লিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারালেন ৩, আতঙ্ক তুঘলকাবাদে

শুক্রবার ভোরে রাজধানীর তুঘলকাবাদ এলাকায় এক বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ। এছাড়াও দগ্ধ ও গুরুতর জখম অবস্থায় আরও পাঁচ নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, শুক্রবার ভোরে যখন অধিকাংশ বাসিন্দা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক সেই সময়েই ভবনটিতে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের নিচতলায় পার্ক করা যানবাহনের কাছে সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে বেগ:
আগুন লাগার খবর পেয়েই দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও, ভবনটিতে পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ বা ‘ফায়ার এক্সিট’ না থাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়। বহু বাসিন্দাকে দমকল কর্মীরা জানলার কাঁচ ভেঙে অথবা ছাদ থেকে উদ্ধার করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন:
দিল্লির মালব্য নগরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তুঘলকাবাদের এই দুর্ঘটনা রাজধানীতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাবই কি এই প্রাণহানির মূল কারণ? উঠছে এমন প্রশ্নও। বিশেষজ্ঞ মহল এখন আবাসিক ভবনগুলোতে নিয়মিত বৈদ্যুতিক পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে পালনের দাবি জানাচ্ছেন।
তদন্ত শুরু:
পুরো ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বহুতল ভবনটিতে অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাজধানী দিল্লিতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।