‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’-র বিড়ম্বনা! নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে বিপাকে কমেডিয়ান প্রণীত ও হিমাংশু

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ পাওয়ার নেশায় মাত্রাতিরিক্ত অশালীনতা ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের খেসারত দিতে হচ্ছে জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রণীত মোরে এবং ওয়েব ডেভেলপার হিমাংশু জাঙ্গরাকে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক বিতর্কিত ভিডিওর জেরে দু’জনকেই সমন পাঠাল মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ। মহিলাদের মর্যাদা ও সম্মতির (Consent) বিষয়টিকে অত্যন্ত লঘু করে দেখানোর অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের মূলে যা
কিছুদিন আগে প্রণীত মোরের একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-র ভিডিও ক্লিপিং ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। সেখানে হিমাংশু জাঙ্গরা নামক এক দর্শক দাবি করেন, কোনো তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ালে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ‘অধিকার’ তৈরি হয়ে যায়—তা মেয়েটি রাজি থাকুক বা না থাকুক! এই আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ করার পরিবর্তে কমেডিয়ান প্রণীত মোরে তাকে সমর্থন করেন এবং রসিকতা জুড়ে দিয়ে দর্শককে উৎসাহ দেন। এই অংশটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

জাতীয় মহিলা কমিশনের কড়া অবস্থান
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। কমিশন শুধু এই ভিডিওর সঙ্গে যুক্তদেরই তলব করেনি, বরং হরিয়ানার ডিজিপি-র কাছ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনোভাবেই নারীর অসম্মতি বা হেনস্থাকে ‘রসিকতা’ হিসেবে চালানো সহ্য করা হবে না।

সাইবার পুলিশের কঠোর বার্তা
মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কেবল ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ‘ভাইরাল’ হওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এই কনটেন্ট আপলোড করা হয়েছে। শুধু এই ঘটনাই নয়, একই শো-তে অন্য একটি ক্লিপে ডাক্তার সেজল পাওয়ারের বিরুদ্ধে পুরুষদের মৃতদেহ (Cadavers) নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, এ ধরনের কনটেন্ট সরাসরি আইনত দণ্ডনীয়।

ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই প্রণীত মোরে এবং হিমাংশু জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন। হিমাংশু নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও ডিলিট বা ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন। তবে আইনি জটিলতা তাতে থামেনি। মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি কঠোর অ্যাডভাইজরি জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরির সময় দেশের আইন ও শালীনতা মেনে চলতে হবে।

অশ্লীল বা আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ালে আইনি পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

সাধারণ মানুষকে এই ভিডিওটি আর শেয়ার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা ভিউ পাওয়ার লড়াইয়ে নারীবিদ্বেষ বা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় যে প্রশাসনের নজর এড়াবে না, এই ঘটনাটি তারই বার্তা দিল।