বাজেট নিয়ে তীব্র মতবিরোধ! পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি, বড় সংকটে স্টারমার সরকার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের জেরে পদত্যাগ করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি। তাঁর এই পদত্যাগের কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগ করেন সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নেসও। এই জোড়া পদত্যাগ কিয়ার স্টারমার সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

কেন এই পদত্যাগ?
পদত্যাগপত্রে জন হিলি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাশিয়ার মতো দেশ থেকে হুমকি বাড়ছে, তখন ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তহবিল ও সম্পদ প্রদানে সরকার চরম অনিচ্ছা দেখাচ্ছে। হিলি জানিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা সামরিক বাহিনীর চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

অন্যদিকে, আল কার্নেস তাঁর অভিযোগে বলেন, “বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যুদ্ধ করার পদ্ধতিও বদলে যাচ্ছে। কিন্তু ব্রিটেনের অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সেনাবাহিনী বর্তমানে এমন এক বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করছে, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। অথচ এই বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে অনেক পুরনো এবং শান্তিপূর্ণ সময়ের কথা মাথায় রেখে।

নড়েচড়ে বসল সরকার, নতুন প্রতিরক্ষা সচিব ড্যান জার্ভিস
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে ড্যান জার্ভিসকে ব্রিটেনের নতুন প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রিটেন তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছে। সরকার দাবি করেছে, তারা প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অবশ্য হিলির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাঁর সরকার স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষায় সবচেয়ে বড় ধারাবাহিক বিনিয়োগ করছে।

স্টারমারের রাজনৈতিক সংকট
এই পদত্যাগগুলো প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য রাজনৈতিকভাবে চরম বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী। বর্তমান মন্ত্রিসভার শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার পদত্যাগ তাঁকে দলের অন্দরেই প্রবল চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্টারমারের নিজের দলের বেশ কয়েকজন নেতা তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতির অন্দরমহলে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত বহন করছে।

আন্তর্জাতিক হুমকি মোকাবিলায় ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা যখন প্রশ্নের মুখে, তখন সরকারের ভেতরের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিশ্বমঞ্চে ব্রিটেনের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।