তারকেশ্বরে ত্রাণের পাহাড়! প্রাক্তন বিধায়কের কলেজ চত্বরে উদ্ধার বিশাল সামগ্রী, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের মালিকানাধীন একটি কলেজ চত্বর থেকে উদ্ধার হলো ত্রাণের বিশাল ভাণ্ডার। শুক্রবার পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী কেন এবং কার নির্দেশে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ও পুলিশের ভূমিকা
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কলেজ চত্বরে তল্লাশি চালায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, কম্বল সহ অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণের অনেক উপকরণ। এই বিশাল পরিমাণ সামগ্রী দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—যে সময় সাধারণ মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করেন, তখন এই ত্রাণ সামগ্রীগুলো কেন বণ্টন করা হলো না? বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ক্ষোভে ফুঁসছেন বিধায়ক সন্তু পান
এই ঘটনায় সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তারকেশ্বরের বর্তমান বিধায়ক সন্তু পান। তিনি এটিকে একটি গুরুতর দুর্নীতি এবং অমানবিক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। সন্তু পান বলেন, “এই ত্রাণের অধিকার ছিল সাধারণ মানুষের। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এগুলো লুঠ করে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা কলেজ চত্বরে আটকে রাখা হয়েছিল। যারা মানুষের পেটে লাথি মেরে ত্রাণের পাহাড় গড়েছে, তাদের কঠোর শাস্তি চাই।”

রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই বিতর্কিত ঘটনার সরাসরি সংযোগ থাকায় বিরোধী শিবির থেকে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন রামেন্দু সিংহ রায়। যদিও এই বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়কের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি কেবল আইনি জটিলতা নয়, বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন ময়দান তৈরি করেছে তারকেশ্বরে। সাধারণ মানুষের পাওনা ত্রাণ সামগ্রী কেন বণ্টন না করে গুদামে আটকে রাখা হলো, সেই উত্তর খুঁজছে প্রশাসনিক মহল। তদন্ত শেষ হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি স্থানীয়দের।