কলকাতায় সুরের জাদুকর হরিহরণ! ২০ জুন নজরুল মঞ্চে মাতবে ‘উস্তাদ-এ-গজল’

তিলোত্তমা শহর কলকাতার সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য সুখবর। সুরের মূর্ছনায় মোহিত করতে কলকাতায় আসছেন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বহুমুখী কণ্ঠশিল্পী হরিহরণ। আগামী ২০ জুন, শহরের নজরুল মঞ্চে সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তাঁর একক গজল সন্ধ্যা— ‘উস্তাদ-এ-গজল’। ‘বেঙ্গল ওয়েবে সলিউশন’-এর আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি নিবেদন করছে দুটি স্বনামধন্য প্রসাধনী সংস্থা।

কী বললেন হরিহরণ?
কলকাতায় আসার আগে নিজের উচ্ছ্বাস গোপন রাখেননি পদ্মশ্রী বিজয়ী এই শিল্পী। তিনি বলেন, “কলকাতা সঙ্গীতের শহর, গান সমঝদারদের শহর। এখানে বারবার ফিরে এসে গান পরিবেশন করতে ভালো লাগে।” দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সুরের জগতে রাজ করছেন তিনি। গজলের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা হরিহরণ আজ বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

হরিহরণের সঙ্গীত জীবন:
হরিহরণের সঙ্গীত যাত্রার ব্যাপ্তি বিশাল। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৫ হাজারের বেশি গান, যা তিনি হিন্দি, তামিল, মালয়ালম, মারাঠি এবং তেলুগু সহ ১০টিরও বেশি ভাষায় গেয়েছেন। গজলের পাশাপাশি পপ অ্যালবাম এবং ‘কলোনিয়াল কাজিনস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে ফিউশন সঙ্গীতের পথপ্রদর্শক হিসেবেও তিনি সমাদৃত।

শিল্পী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিরিশেরও বেশি সফল গজল অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন। ‘গুলফাম’, ‘আবসর-এ-গজল’, ‘কাশ’, ‘হালকা নশা’ ও ‘জশন’-এর মতো তাঁর কালজয়ী অ্যালবামগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। প্রবাদপ্রতিম শিল্পী আশা ভোঁসলের সাথে তাঁর কাজগুলো আজও শ্রোতাদের প্রথম পছন্দ। সঙ্গীত জগতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার। এছাড়াও তিনি দু’বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

কেন এই গজল সন্ধ্যা বিশেষ?
গজল মূলত কথা প্রধান গান, যেখানে প্রেম ও বিরহের মতো মানবিক অনুভূতিগুলো সুরের স্নিগ্ধতায় ধরা দেয়। হরিহরণের কণ্ঠে সেই সুরের জাদুর স্বাদ পেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কলকাতার সঙ্গীত রসিকরা। আগামী ২০ জুনের এই বিশেষ সন্ধ্যাটি যে সুরের এক অনন্য মেহফিলে পরিণত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।