বাড়ি বসে থাকলেই পরিবারের চাপ! কেন অবসর নিতে চান না অক্ষয়? ফাঁস করলেন গোপন কথা

তিন দশক পার, দেড়শোরও বেশি ছবি—তবুও গতির কোনো খামতি নেই। বলিউডের ‘খিলাড়ি’ অক্ষয় কুমার মানেই যেন এক জ্বলন্ত এনার্জি। সমসাময়িক অনেক তারকা যেখানে অবসর বা বিরতির কথা ভাবছেন, সেখানে অক্ষয় কুমারের উত্তর স্পষ্ট—অবসর তাঁর অভিধানেই নেই।

ভোরে ঘুম থেকে উঠলেই কি অবসরের চিন্তা?
সম্প্রতি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে অক্ষয় কুমারের কাছে অবসর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিনেতা নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় জানান, খুব ভোরে ঘুম ভাঙার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাঁর মনে হয়—’আজ না থাকলে কেমন হতো?’ কিন্তু সেই ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে তাঁর সময় লাগে না। অভিনেতা বলেন, “শুটিং সেটে শতাধিক মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। তাঁদের সেই প্রত্যাশা আর কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আমাকে ফের ব্যস্ত জীবনে টেনে নিয়ে আসে।”

বাড়িতে থাকাই বেশি কষ্টের!
অক্ষয় মজার ছলে জানান, তিনি একদিন বাড়িতে বসে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। তাঁর কথায়, বাড়িতে থাকলে উল্টে নতুন নতুন দায়িত্ব এসে ঘাড়ের ওপর চাপে—কখনও বাগানের দেখভাল, কখনও পোষ্য সামলানো, আবার কখনও ঘরের কাজ। অক্ষয় স্পষ্ট বলেন, “বাড়িতে বসে থাকার চেয়ে কাজ করাই অনেক বেশি স্বস্তির!” শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যরাও নাকি দুদিন পরেই জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কবে কাজে ফিরছো?”

অক্ষয়ের ‘লাইফ ফিলোসফি’
পুরো আলোচনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল অভিনেতার ব্যক্তিগত দর্শন। অক্ষয় কুমারের মতে, অবসরের ধারণাটিই অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, একজন মানুষ যতদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম, ততদিন তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত। জীবন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সক্রিয় থাকাই দীর্ঘ ও অর্থপূর্ণ জীবনের চাবিকাঠি বলে মনে করেন অভিনেতা।

৩৬ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারের পরেও অক্ষয়ের কাছে কাজ কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা জীবনযাপনের এক অপরিহার্য অংশ। তাই অবসরের কোনো পরিকল্পনা আপাতত তাঁর নেই, বরং নতুন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ফের পর্দায় ফিরতে তিনি প্রস্তুত।