অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই! দলের ভাঙন রুখতে ও ইন্ডিয়া জোটে প্রাসঙ্গিক হতে সোমবার দিল্লি পাড়ি মমতার

বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এখন চরমে। একদিকে জনপ্রতিনিধিদের দলবদল বা বেসুরো হওয়ার হিড়িক, অন্যদিকে দলের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ— এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে সোমবার দিল্লি পাড়ি দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লি সফরের প্রেক্ষাপট: নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর এই প্রথম জাতীয় রাজধানী সফরে যাচ্ছেন মমতা। সূত্রের খবর, একদিকে যেমন দলের ভাঙন রোধ করা, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নিজের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই শুক্রবার দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সেখানে যোগ দেবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইন্ডিয়া জোটই এখন ভরসা: তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটই বাঁচার শেষ খড়কুটো। খাতা-কলমে তৃণমূল সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হলেও, একাধিক সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের হাত ধরে জাতীয় রাজনীতিতে ফের অক্সিজেন পাওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা। নির্বাচনের পর একাধিক ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়ানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দিল্লি সফরের মূল লক্ষ্য:
-
দলীয় ভাঙন রোধ: তৃণমূলের একাংশ জনপ্রতিনিধি যেভাবে কালীঘাটের প্রতি দূরত্ব তৈরি করছেন, তা থামাতে সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক ও মানভঞ্জন করার চেষ্টা করবেন নেত্রী।
-
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক: আগামী ৯ জুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে, সেখানে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছেন মমতা।
-
নেতৃত্বের রাশ: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির বৈঠকে পাঠানোর আগে একাধিক সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। নেত্রী নিজেই এখন দলের রাশ নিজের হাতে রাখতে চাইছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ: কেরল বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কংগ্রেস ও সিপিএমের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, যা ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে সমীকরণ বদলে দিয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজ্য ও কেন্দ্রে তৃণমূলের অবস্থান মজবুত করাই এখন মমতার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এখন দেখার বিষয়, সোমবার দিল্লি পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিদ্রোহী নেতাদের সামাল দিয়ে ফের জোড়াফুল শিবিরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না।