পরিবারের সব মহিলা কীভাবে পাবেন অন্নপূর্ণার টাকা? জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের শেষ নেই। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিভ্রান্তি। রবিবার উত্তরকন্যায় এই জল্পনার অবসান ঘটালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
এক পরিবারের জন্য কি একটাই ফর্ম? মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি ফর্মের অপ্রতুলতা মেটাতে একটি পরিবারের জন্য একটিই ফর্ম যথেষ্ট। তিনি বলেন, “প্রত্যেক মহিলাকে আলাদা আলাদা ফর্ম নেওয়ার দরকার নেই। একটি ফর্মের মধ্যেই পরিবারের একাধিক সদস্যের (যেমন—শাশুড়ি, বৌমা, মেয়ে, ননদ) অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার জায়গা রয়েছে। ওই একটি ফর্মে তথ্য দিলেই হবে।”
যোগ্যতা ও শর্তাবলি:
-
বয়স: আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
-
বাসিন্দা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
-
নিয়ম: একই পরিবারের একাধিক সদস্য যোগ্য হলে, তারা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। অর্থাৎ একই ছাদের তলায় থেকেও প্রত্যেকে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: অনেক উপভোক্তার ভুল ধারণা রয়েছে যে, পরিবারের জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে। মন্ত্রী এবং সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের টাকা সরাসরি পেতে প্রত্যেক আবেদনকারী মহিলার নিজস্ব নামে ‘সিঙ্গেল’ বা একক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে বৈধ মোবাইল নম্বর এবং পরিচয়পত্র যুক্ত থাকতে হবে।
কেন এত তথ্য চাওয়া হচ্ছে? সরকারের লক্ষ্য হলো প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা। তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে পরিবারের সদস্যদের পেশা, উপার্জন, জমি-বাড়ি এবং যানবাহনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাও পৌঁছে দেওয়া হবে।
সতর্কবার্তা: ফর্মে কোনো ভুল বা ভুয়ো তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে আধার কার্ড ও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে রাখবেন, এখানে ‘পরিবার’ বলতে সেই সদস্যদের বোঝানো হয়েছে, যারা একই ঠিকানায় থাকেন এবং একই রান্নাঘরে খাওয়া-দাওয়া করেন।