‘অবৈধ মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি বন্ধ করবে বিজেপি!’ বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

রাজ্য সরকারের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া মাদ্রাসা সমীক্ষার কাজকে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী’ বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, গত ৩৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মাদ্রাসা এখন জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পালের বিস্ফোরক অভিযোগ: মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ মাদ্রাসার আড়ালে চলা অসামাজিক কার্যকলাপ রুখে দেওয়া। শাদ আলি নামক এক জঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, অবৈধ মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েই সে দিব্যি ভোটার কার্ড বানিয়ে তিনবার ভোট দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই বাংলাকে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে দেব না।”
আধুনিক শিক্ষার ওপর জোর: ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের শিশুদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের সন্তানরা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে চলা উন্নয়নের মূলস্রোতে অংশ নিক। তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএএস অফিসার, বিজ্ঞানী বা আইএফএস কর্মকর্তা হোক। আইনি মাদ্রাসাগুলিতেও আধুনিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিতর্ক: বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মাদ্রাসাগুলিতে কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলিকে শিক্ষার বদলে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই সমীক্ষা জরুরি। যদিও এই বক্তব্য নিয়ে রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, ধর্মের নামে বিচ্ছিন্নতাবাদ না ছড়িয়ে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটালেই বাংলার সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব।
অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছে। বিরোধীরা এই মন্তব্যকে ‘নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে শাসকদল এই সমীক্ষাকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অঙ্গ হিসেবেই তুলে ধরছে।