মাস্ক পরে সিঁড়ি দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ-৩০ মিনিটেই কাজ শেষ! অধ্যাপিকা খুনের নেপথ্যে ভাড়াটিয়া দম্পতি?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। গত ৪ জুন নিজের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার দেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতায় বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশেই পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
খুনের ছক ও অপারেশন: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দম্পতির নাম রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। তারা বর্ধমানের বাসিন্দা এবং দেবস্মিতার দাদুর বাড়ির পুরনো ভাড়াটিয়া। দেবস্মিতার দাদুর মৃত্যুর পর তিনি ওই সম্পত্তিটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান, সম্পত্তিটি হাতানোর লক্ষ্যেই দেবস্মিতাকে সরানোর ছক কষেন ভাড়াটিয়া দম্পতি।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল আসল ছবি: তদন্তে নেমে ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত দম্পতি মুখে মাস্ক পরে একটি ক্যাব নিয়ে এসেছিলেন। সন্দেহ এড়াতে লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ৬ তলায় ওঠেন তাঁরা, সঙ্গে ছিল তাদের নাবালক সন্তানও। দেবস্মিতা চেনা লোক হওয়ায় নিজেই দরজা খুলে দিয়েছিলেন। খুনের ঠিক ৩০ মিনিট পর অভিযুক্তরা জামাকাপড় বদলে ক্যাবে করেই পালিয়ে যান। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ক্যাবচালকের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ।
পুলিশের জালে অভিযুক্তরা: প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লি পৌঁছে এই অপরাধ ঘটায় ধৃতরা। বুধবার রাতে দেহ উদ্ধারের পর থেকেই তদন্তে সক্রিয় হয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বর্ধমানের বাদামতলা এলাকা থেকে রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাবালক সন্তানকেও আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ঠান্ডা মাথায় খুন— এই ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
এ ধরণের আরও অপরাধমূলক ও অনুসন্ধানী খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজে চোখ রাখুন।