সিবিএসই দুর্নীতি নিয়ে মোদীকে বেনজির আক্রমণ রাহুলের, বললেন— “উনি চান যুবকরা পকোড়া ভাজুক”

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন বা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম’ (OSM)-এ বিশাল দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করেছেন সার্থক সিদ্ধান্ত ও নিসর্গ অধিকারী নামক দুই ছাত্র। আর এই ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
রাহুলের নিশানায় মোদী: রবিবার এই দুই ছাত্রের সাহসিকতার প্রশংসা করে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মোদীজি সম্ভবত এটাই চান যে দেশের তরুণ প্রজন্ম যেন রিলস বানায় কিংবা পকোড়া ভাজে। তাঁরা যাতে চোখ-কান বন্ধ রেখে কোনো প্রশ্ন না তোলে, সেটাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।” রাহুল গান্ধীর মতে, যে যুবকরা কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন, তাঁদের দমন করার চেষ্টা করছে মোদী সরকার।
কী এই কেলেঙ্কারি? সিবিএসই-র খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার এই টেন্ডারে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সার্থক সিদ্ধান্ত এবং নিসর্গ অধিকারী। সার্থক খোদ সংসদীয় কমিটির সামনে এই দুর্নীতির প্রামাণ্য প্রেজেন্টেশনও দিয়েছেন। এই কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। চাপে পড়ে কেন্দ্র সিবিএসই-র দুই শীর্ষকর্তাকে সরিয়ে দিলেও, কংগ্রেস এটিকে কেবল ‘আইওয়াশ’ বা ধামাচাপা দেওয়ার কৌশল বলেই মনে করছে।
বিরোধীদের সুর: কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে এমন দুর্নীতি বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতার দাবিকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজ এখন কেবল পকোড়া ভাজার জন্য তৈরি হয়নি, তারা প্রশ্ন করতে শিখেছে এবং এই দুর্নীতির সঠিক তদন্ত ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা এখন কেবল একটি বোর্ডের দুর্নীতি নয়, বরং সরকারি নিয়োগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে এক বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।