সেনাবাহিনীর নতুন বাজি হেক্সাকপ্টার ড্রোন! দুর্গম পাহাড়ের শিখরে এবার নিমেষেই পৌঁছবে রসদ

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের গুরুত্ব যে কতখানি, তা ফের প্রমাণ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ও প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের কাছে দ্রুত অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী তাদের বহরে যুক্ত করল উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘হেক্সাকপ্টার ড্রোন’ (Hexacopter Drone)।
হেক্সাকপ্টার ড্রোনের বিশেষত্ব: সেনাবাহিনীর এই নতুন ড্রোনটি লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংযোজন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
-
পেলোড ক্ষমতা: এই ড্রোনটি একসঙ্গে ২০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। ফলে সম্মুখ সমরে অস্ত্র, গোলাবারুদ, খাদ্যসামগ্রী এবং জীবনদায়ী ওষুধ পৌঁছে দেওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে।
-
ফ্লাইট টাইম ও দূরত্ব: একবার চার্জে এই ড্রোনটি টানা ৩০ মিনিট উড়তে পারে এবং ৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অনায়াসে পাড়ি দিতে পারে।
-
কৌশলগত সুবিধা: জম্মু ও কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গলের মধ্যে যেখানে স্থলপথে পৌঁছানো অসম্ভব বা সময়সাপেক্ষ, সেখানে এই ড্রোন নিমিষেই রসদ পৌঁছে দিতে পারবে।
শুধু যুদ্ধ নয়, দুর্যোগেও ভরসা: সামরিক অভিযানের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। বন্যা, ভূমিকম্প, ভূমিধস কিংবা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় আটকে পড়া সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হেক্সাকপ্টার ড্রোন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের মতো উচ্চ-উচ্চতার এলাকায় দুর্যোগকালীন ত্রাণ কার্যক্রমে এটি সেনাবাহিনীর হাত আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, আধুনিক এই ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার জওয়ানদের অপারেশনাল সক্ষমতাকে বহু গুণ বাড়িয়ে দেবে এবং দুর্গম অঞ্চলে রসদ সরবরাহের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।