বৈভবের জন্য নিয়ম বদল বিসিসিআই-এর! শচীনের পর এই প্রথম কোনো কিশোর পেল বিশেষ ছাড়

আইপিএল ২০২৬-এ রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি গায়ে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে শিরোনামে উঠে এসেছেন ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর অভাবনীয় প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি ডাক পেলেন ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিসিসিআই-এর একটি মানবিক সিদ্ধান্ত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বৈভবকে বিদেশ সফরে সঙ্গ দেওয়ার জন্য তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে যাওয়ার বিশেষ অনুমতি দিল বোর্ড।
কেন এই বিশেষ ছাড়? মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং সিনিয়র দলের চাপ সামলানো যে কোনো কিশোরের পক্ষেই চ্যালেঞ্জিং। বৈভব যাতে নতুন পরিবেশ এবং এই বিপুল জনপ্রিয়তার চাপ মানসিকভাবে সামলে নিতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, “বৈভব যেহেতু এখনও শিশু, তাই আসন্ন ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে তাঁর বাবা-মা তাঁর সঙ্গে থাকবেন। এর ফলে সে একাকীত্ব বোধ করবে না এবং দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।” জানা গেছে, এই বিদেশ সফরের যাবতীয় খরচ বিসিসিআই বহন করবে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ১৯৮৯ সালে শচীন টেন্ডুলকার যখন ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর বড় ভাই অজিত টেন্ডুলকার তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ঠিক সেই ঐতিহ্যের পথ ধরেই বৈভবের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করল বোর্ড।
নিয়মে বড় পরিবর্তন: সাধারণত বিসিসিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, সিরিজের ৪৫ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো খেলোয়াড় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাখতে পারেন না। দীর্ঘ সফরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের অনুমতি থাকে। তবে ১৫ বছর বয়সী বৈভবের ক্ষেত্রে এই কঠোর নিয়ম শিথিল করেছে বোর্ড।
শচীনের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি: বর্তমানে বৈভবের বয়স ১৫ বছর ৭১ দিন। তিনি যদি এই সফরে ভারতের হয়ে একাদশে জায়গা পান, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখাবেন তিনি। শচীন টেন্ডুলকার ১৬ বছর ১৯৪ দিন বয়সে ভারতীয় দলে অভিষেক করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।