‘ফিরহাদকে বাধ্য করেছেন মমতা!’ মেয়রের পদত্যাগ নিয়ে বিস্ফোরক সজল ঘোষ

কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলে যখন নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই সুর চড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে সরে যাওয়াকে সরাসরি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ‘হিংসা’ ও ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ ফল হিসেবে দাবি করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
সজল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি:
সজল ঘোষের দাবি, ফিরহাদ হাকিম স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি, বরং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে তিনি সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিজেপি বিধায়কের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নির্বাচনে হেরেছেন, এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোনো পদে ছিলেন না। এই পরিস্থিতির জেরে তৃণমূলের অন্দরে যে চরম ঈর্ষা ও হিংসা তৈরি হয়েছে, তার বলি হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।” সজলের মতে, “নিজেরা পদে নেই বলেই তাঁরা অন্য কাউকে পদে থাকতে দিতে চাইছেন না।”
অভিষেকের প্রত্যাবর্তন ও দায়িত্ব ভাগ:
যদিও সজলের এই মন্তব্য আসার পরই রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটা বদলে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদে বহাল করা হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অভিষেকের পুরনো দায়িত্বের অনেকটা অংশ এবার ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় নতুন পরিকল্পনা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অভিষেকের ওপর বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজর এবং সাম্প্রতিক আইনি জট বাড়ার কারণে কি এই দায়িত্ব বণ্টন? নেপথ্যে কি অভিষেকের গ্রেফতারির কোনো আশঙ্কা রয়েছে? সেই সম্ভাবনা থেকেই কি ‘ব্যাকআপ প্ল্যান’ হিসেবে দুই সাংসদের ওপর দায়িত্ব বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় চর্চার বিষয়।
সজল ঘোষের নিশানায় অভিষেক:
এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে করা সজলের মন্তব্য বেশ কড়া। বিজেপি বিধায়কের দাবি, “অভিষেককে আগে গ্রেফতার না করায় বরং দলের ক্ষতি হয়েছে। তাঁর কারণেই তৃণমূল আজ দুই ভাগে বিভক্ত। অভিষেক একাই দলটাকে ভেঙে দিয়েছেন।”