ছাত্র আন্দোলনের চাপে বাতিল নিয়োগ পরীক্ষা! চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এবার রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার সরকারি কর্মী

ছাত্র আন্দোলনের চাপে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পথে নামলেন ঝাড়খণ্ডের প্রায় ২ হাজার সরকারি কর্মী। রাজধানী রাঁচির প্রজেক্ট ভবনের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়ে ক্ষুব্ধ কর্মীরা তাঁদের চাকরি বহাল রাখার জোরালো দাবি তুলেছেন। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, পরীক্ষায় বৈধভাবে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। ফলে হঠাৎ করে পরীক্ষা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব তাঁদের কর্মজীবনে পড়া উচিত নয়।
জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) নিয়োগ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০১৪ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হওয়া জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের একটি বড় অংশ এই প্রতিবাদী আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ, চলতি ছাত্র আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখেই সরকার শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ শুধুমাত্র মৌখিক সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এই কর্মীদের চাকরি রাতারাতি বাতিল করা যেতে পারে না।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েই থাকে, তবে তার দায় সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের। সেই অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত না থাকা সাধারণ ও নির্দোষ প্রার্থীদের কোনোভাবেই তার শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন যে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতেই নিষ্পত্তি হবে এবং প্রয়োজনে তাঁরা আইনি পথেই এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
প্রতিবাদী কর্মী চন্দা কুমারীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, সরকারের এই অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার নির্দোষ প্রার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন। গত ২৪ দিন ধরে সরকার একতরফাভাবে শুধুমাত্র আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্যই শুনে গেছে, অথচ ইতিমধ্যে বৈধ উপায়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা নিজেদের কথা বলার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাননি।
পরীক্ষার পটভূমি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, জেএসএসসি-সিজিএল বা ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষাটি স্নাতক স্তরের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই মূলত অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ অফিসার, জুনিয়র সেক্রেটারিয়েট অ্যাসিস্ট্যান্ট, লেবার এনফোর্সমেন্ট অফিসার, প্ল্যানিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ব্লক সাপ্লাই অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলিতে প্রার্থী নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুলাই। রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং স্বচ্ছতার অভাবের গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করেছিলেন চাকরিপ্রার্থী ছাত্রছাত্রীরা। বিতর্কিত ওই পরীক্ষা বাতিল, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ সিবিআই তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এমনকি বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা অনির্দিষ্টকালের আমরণ অনশনেও বসেছিলেন।
অবশেষে টানা ২৪ দিনের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত সোমবার হেমন্ত সোরেন সরকার ছাত্রদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় (যদিও সিবিআই তদন্তের দাবিটি মানা হয়নি)। কিন্তু সরকার জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করতেই নতুন করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন ইতিমধ্যে চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা। তাঁদের একটাই মূল দাবি—পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠতেই পারে, কিন্তু তার দায় কোনোভাবেই নির্দোষ কর্মীদের ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁদের চাকরি কেড়ে নেওয়া চলবে না।