‘দিমাগি নকশাল’ থেকে সোজা রাজনৈতিক দল! স্বাধীনতা দিবসের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ এই ট্রেন্ড এল কোথা থেকে?

‘দিমাগি নকশাল’—গত স্বাধীনতা দিবসের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এটি অন্যতম ট্রেন্ডিং শব্দবন্ধ। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন হ্যাশট্যাগ এবং শয়ে শয়ে পোস্ট। গত ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাকার থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, অস্ত্রধারী নকশালদের নির্মূল করা সম্ভব হলেও সমাজ থেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল-মনস্ক মানসিকতার মানুষদের বিচ্ছিন্ন করার সঠিক সময় এসে গেছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই মূলত যাবতীয় রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনার সূত্রপাত হয়। আর এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় আত্মপ্রকাশ করেছে ‘Dimagi Naxal Party’-র মতো একটি প্ল্যাটফর্ম, যা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় চলছে তুমুল চর্চা।
Gen Z-এর ভাষা ও মিমের জাদুতে ভাইরাল প্ল্যাটফর্ম
নতুন প্রজন্মের বা Gen Z-এর ভাষা, ট্রেন্ডি মিম, ব্যঙ্গ এবং তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বার্তার মিশেলে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি খুব কম সময়ের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার নজর কেড়েছে। এই পেজগুলির ভার্চুয়াল দেওয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স কার্ড, রিল, কবিতা, কৌতুক এবং ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। যেমন—তাদের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করা একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “When someone says Dimaagi Naxal, all I hear is intellectual baddie!”
পাশাপাশি, ‘Dimagi Naxal Party’-র এক্স (X) হ্যান্ডেল @DNJP_India-তে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৪ হাজার ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে বলে নেটিজেনদের একাংশ প্রচার চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, অনেক সাধারণ ব্যবহারকারী নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টের নামের আগেও ‘Dimagi Naxal’ শব্দবন্ধটি জুড়ে দিতে শুরু করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ করে এই পেজটি বা অনলাইন আন্দোলন কে বা কারা তৈরি করল? সেই আসল তথ্য এখনও পর্দার আড়ালেই রয়েছে।
রাজনীতি ও সেলিব্রিটি মহলে তরজা তুঙ্গে
এই পুরো উদ্যোগটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডির মধ্যে আটকে নেই, বরং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও এটি নিয়ে প্রকাশ্যেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। একদিকে যেমন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজেকে ‘proud dimagi Naxal’ বা গর্বিত দিমাগি নকশাল বলে অভিহিত করেছেন, তেমনই জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ একটি রিল তৈরি করে নেটিজেনদের ‘দিমাগি’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই পুরো বিতর্কে চুপ করে বসে নেই শাসকদল বিজেপিও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যটি সরাসরি কোনো বিরোধী রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে করা হয়নি। তাঁর দাবি, এই শব্দবন্ধের মাধ্যমে মূলত এমন কিছু ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যাঁরা মাওবাদীদের পরোক্ষভাবে সমর্থন করেন, দেশের সংবিধান মানতে অস্বীকার করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান, ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের দাবি করেন কিংবা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চিন্তাভাবনাকে প্রশ্রয় দেন।
সব মিলিয়ে, ‘Dimagi Naxal Party’-র নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তাদের আগামীদিনের রাজনৈতিক বা সামাজিক লক্ষ্য কী এবং তারা ভবিষ্যতে কোনো সংঘবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায় কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অজানা হলেও, এই ট্রেন্ড ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনার পারদ চড়েই চলেছে।