ট্রেনে খাবার ও জল খাচ্ছেন তো? বড় বিপদের আগে আইআরসিটিসির এই কড়া পদক্ষেপ জানুন!

রেলযাত্রীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের গুণমান, নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। রেল মন্ত্রকের অধীন এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তরফে ট্রেন ও স্টেশনে অননুমোদিত খাবার, পানীয় এবং প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার (PDW) বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

রেলের কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন জোনে গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)। ট্রেন এবং স্টেশনের ক্যাটারিং ইউনিটগুলিতে আচমকা পরিদর্শন চালিয়ে লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লখনউয়ে ৫ হাজারের বেশি অননুমোদিত জলের বোতল বাজেয়াপ্ত
২৮ জুলাই থেকে ৮ অগস্ট পর্যন্ত লখনউ রিজিয়নের বিভিন্ন স্টেশনে আইআরসিটিসি ও রেলের কমার্শিয়াল বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। মোট ১১৭টি ট্রেন পরিদর্শন করে ৫,২৪১ বোতল অননুমোদিত প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

চণ্ডীগড় রিজিয়নেও বিশেষ অভিযান
১০ অগস্ট চণ্ডীগড় রিজিয়নের উদ্যোগে আম্বালা, লুধিয়ানা, অমৃতসর, কাটরা ও জম্মু-সহ বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন পরিদর্শন করা হয়। মোট ৫১টি ট্রেন পরীক্ষা করে ৩,১০৮ বোতল অননুমোদিত প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার বাজেয়াপ্ত করা হয়। এছাড়াও চণ্ডীগড় রিজিয়নের বিভিন্ন ক্যাটারিং ইউনিটে আচমকা পরিদর্শনের জন্য কিউআরটি (QRT) সক্রিয় করা হয়েছে। আম্বালায় দুটি আকস্মিক অভিযানে আইসক্রিম ও ফ্লেভার্ড মিল্ক-সহ ১৩ কার্টন অননুমোদিত পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়। সাহারানপুর স্টেশনেও অননুমোদিত আইসক্রিম, পানীয় এবং প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার উদ্ধার করা হয়েছে।

সাবরমতীতে উদ্ধার অননুমোদিত জল ও পানীয়
৯ অগস্ট সাবরমতী বিজি (BG) স্টেশনে ১৯২২৩ এবং ১৯০৩১ নম্বর ট্রেনের ট্রেন সাইড ভেন্ডিং (TSV) পরিষেবায় আচমকা পরিদর্শন চালায় আইআরসিটিসি। ট্রেনে তোলার সময় অননুমোদিত প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার ও বাটারমিল্ক শনাক্ত করা হয়। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হাওড়াতেও আইআরসিটিসি-র কড়া নজরদারি
৮ অগস্ট রেলের কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে হাওড়ায় কিউআরটি-র মাধ্যমে আচমকা পরিদর্শন চালানো হয়। এই অভিযানে অননুমোদিত খাবার ও পানীয় উদ্ধার করে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতেও চলল অভিযান
৮ থেকে ১৪ অগস্ট পর্যন্ত গুয়াহাটি, কামাখ্যা, আগরতলা, কাটিহার, নিউ জলপাইগুড়ি এবং ডিব্রুগড়ে একাধিক প্রি-বোর্ড, আচমকা ও অনবোর্ড পরিদর্শন চালানো হয়। ট্রেনের পাশাপাশি স্ট্যাটিক ক্যাটারিং ইউনিটগুলিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করা হয়।

এই বিশেষ অভিযানে অননুমোদিত প্যাকেজড ড্রিঙ্কিং ওয়াটার ও খাবার-পানীয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত দাম নেওয়া, কর্মীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পরিচ্ছন্নতা, পেস্ট কন্ট্রোল, সরঞ্জামের মান এবং যাত্রী পরিষেবা খতিয়ে দেখা হয়েছে। একাধিক জায়গা থেকে অননুমোদিত জল, পানীয় ও খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে।

নিয়ম ভাঙলে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
আইআরসিটিসি-র তরফে সমস্ত ক্যাটারিং পরিষেবা প্রদানকারীকে কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে কোনো অননুমোদিত খাবার বা পানীয় ট্রেনে তোলা, মজুত কিংবা বিক্রি না করা হয়। পাশাপাশি ক্যাটারিং ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইআরসিটিসি। সংস্থার সমস্ত জোন ও রিজিয়নে কিউআরটি সক্রিয় করা হয়েছে এবং রেলের কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনেও এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। রেলযাত্রীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং মানসম্মত খাবার ও পানীয় পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *