আমেরিকা-ইরান সংঘাতের তিন মাস! শান্তি কি অধরাই? হরমুজ ঘিরে ফের চূড়ান্ত উত্তেজনা

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আমেরিকা-ইরান উত্তজনা আজ ২৮ মে, তিন মাস পূর্ণ করল। গত ৯০ দিনে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বদলানোর বদলে আরও জটিল হয়েছে। শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে ‘শূন্য’তে। শান্তি আলোচনা চললেও মাঠ পর্যায়ে হামলা ও পাল্টা হামলার চিত্রই আজ স্পষ্ট।
হরমুজে ফের মার্কিন হামলা ও ইরানের জবাব
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের বন্দর আব্বাসের একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের দাবি, ওই ঘাঁটি থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বিপজ্জনক ছিল। তাদের দাবি, এটি একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’। তবে ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই ইরান তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করে তোলে। পাল্টা আঘাত করতে দেরি করেনি ইরানের আইআরজিসি (IRGC)। ভোর ৫টার দিকে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালায় তারা। তেহরানের সাফ হুঁশিয়ারি, “আমেরিকা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।”
শান্তি চুক্তি কি অলীক স্বপ্ন?
এই তিন মাসে অনেক নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কখনো আপসের প্রস্তাব, আবার কখনো ইরান ধ্বংসের হুমকি—সবই বিশ্ববাসীকে সাক্ষী রেখেছে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির। এদিকে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাণিজ্য চরম সংকটের মুখে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরান—উভয় দেশই নিজেদের জেদে অনড়। ট্রাম্প একদিকে শান্তি চুক্তির কথা বললেও, অন্যদিকে তাড়াহুড়ো না করার নীতি নিচ্ছেন। আবার তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো নিয়ম লঙ্ঘন বা সার্বভৌমত্বের আঘাত তারা সহ্য করবে না।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব
হরমুজ প্রণালীতে এই নিরন্তর অস্থিরতা ও সামরিক শক্তির প্রদর্শনীতে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ধুঁকছে। তেলের দাম থেকে শুরু করে পণ্যের জোগান—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ছে মারাত্মকভাবে। দুই দেশের এই হার না মানা মানসিকতা এখন গোটা পশ্চিম এশিয়াকে এক বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।