কর্নাটকের মসনদ ছাড়ছেন সিদ্দারামাইয়া? রাজ্যপালের অনুপস্থিতিতেই বড় পদক্ষেপের পথে মুখ্যমন্ত্রী!

কর্নাটকের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। গতকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, বৃহস্পতিবারই হয়তো কুর্সি ছাড়বেন তিনি। কিন্তু নতুন করে তৈরি হয়েছে জটিলতা। বর্তমানে রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলট রাজ্যেই নেই। সূত্রের খবর, আত্মীয়ের অসুস্থতার কারণে গত গভীর রাতে তিনি মুম্বই গিয়ে সেখান থেকে ইন্দোরে রওনা হয়েছেন। রাজ্যপালের এমন আকস্মিক অনুপস্থিতিতে সিদ্দারামাইয়া কীভাবে পদত্যাগ করবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
সংবিধান কী বলছে?
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যপাল সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। তবে প্রথা অনুযায়ী, সাধারণত রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতেই এই পত্র তুলে দেওয়া হয়। এরপর রাজ্যপাল তা গ্রহণ করলেই পদত্যাগ প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। রাজ্যপাল বর্তমানে বাইরে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর সাথে রফার জের?
সূত্রের খবর, গত ২৬ মে দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরেই সিদ্দারামাইয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে রাজ্যসভার আসন এবং তাঁর ছেলেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আজই দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে খবর, আজ দুপুর আড়াইটে থেকে তিনটের মধ্যে রাজভবনে পৌঁছাতে পারেন সিদ্দারামাইয়া। রাজ্যপালের অবর্তমানে তাঁর সচিবের হাতেই ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন তিনি। এরপরই সন্ধ্যায় তাঁর দিল্লি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাতেই তাঁর এই সম্ভাব্য সফর।
এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্নাটকের মসনদে কোনো বড় পরিবর্তন আসে কি না।