ফাঁকা গরুর হাট, অপরদিকে ইদের ভিড়ে উত্তাল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড

কয়েক দশকের চেনা ট্র্যাডিশন ভেঙে এ বছর বকরি ইদের নমাজ অনুষ্ঠিত হলো কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এত বছর ধরে রেড রোড ইদ জামাতের সাক্ষী থাকলেও, এবার নিরাপত্তার কারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই ব্রিগেডের বিশাল ময়দানে ভিড় জমান ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
কেন এই পরিবর্তন? রেড রোড এলাকাটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় গত বছর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে এ বছর রেড রোডের পরিবর্তে ব্রিগেডে নমাজের আয়োজন করা হয়। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম রেড রোডের বাইরে শহরের এত বড় ময়দানে ইদ জামাত সম্পন্ন হলো। উল্লেখ্য, এই ব্রিগেডেই কিছুদিন আগেই ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’-এর মতো বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যা প্রমাণ করে ঐতিহাসিক এই ময়দান এখন সব ধর্মের মানুষের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
হাটে মন্দা ও নতুন নিয়মাবলী: বকরি ইদ উপলক্ষে পশুর হাটে বেচাকেনায় ভাটা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক বিক্রেতা সারাদিন বসে থাকলেও আশানুরূপ খদ্দের পাননি। এর পেছনে যেমন সরকারি নিয়মকানুনের কড়াকড়ি রয়েছে, তেমনই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতাও বড় ভূমিকা পালন করেছে।
রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুমোদিত কসাইখানা ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নাখোদা মসজিদের তরফেও বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই না করাই শ্রেয়, যাতে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের কোনো অস্বস্তি না হয়। এই সচেতনতা ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে এ বছর প্রকাশ্য পশু জবাইয়ের প্রবণতা প্রায় ছিল না বললেই চলে।
উৎসবের আমেজ: নমাজ শেষে আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে মেতে ওঠেন সকলে। ইদ-উল-আধহার এই দিনে ভাতৃত্ববোধ ও সাহায্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভুরিভোজের আয়োজন ছিল প্রতিটি পরিবারে। বিরিয়ানি, রেজালা, কোরমা থেকে শুরু করে সেমাই ও পায়েসের পদে সেজে উঠেছিল প্রতিটি অন্দরমহল।
একদিকে রেড রোড থেকে ব্রিগেডে স্থানান্তরের মতো বড় পরিবর্তন, অন্যদিকে ধর্মীয় আচার পালনে সচেতনতার নজির— সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বকরি ইদ কলকাতা শহর এক নতুন ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকল।