শ্বশুর-বৌমার অবৈধ সম্পর্ক, ল্যাপটপে নজরদারি! বুলন্দশহরে জোড়া খুনে বেরিয়ে এল পৈশাচিক সব তথ্য

উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কালান্দারগড়ি গ্রামের এক জোড়া খুনের ঘটনায় প্রকাশ্যে এল সম্পর্কের চরম অবনতি ও ডিজিটাল নজরদারির এক ভয়াবহ চিত্র। মোমিন নামের এক যুবক নিজের বাবা রিয়াজউদ্দিন এবং স্ত্রী সানাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে পারিবারিক কলহ, অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ এবং একটি নবজাতকের পিতৃত্ব নিয়ে তিক্ততার এক পৈশাচিক অধ্যায়।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে কী রয়েছে?
২০২৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মোমিন ও সানার বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে মোমিনের বাবা রিয়াজউদ্দিন এবং পুত্রবধূ সানার মধ্যে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মোমিনের মা কিশওয়ার এই সম্পর্কের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলার পর থেকেই পরিবারে অশান্তি দানা বাঁধতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, রিয়াজউদ্দিন উল্টে নিজের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
ল্যাপটপে ডিজিটাল নজরদারি:
তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রী সানা ও বাবার মধ্যকার মেলামেশা নিয়ে মোমিন প্রচণ্ড সন্দিহান ছিল। সে অত্যন্ত কৌশলে তার স্ত্রীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তার ল্যাপটপের সাথে সংযুক্ত (WhatsApp Web) করে ফেলেছিল। প্রতিদিন স্ত্রী ও বাবার কথোপকথন, ভয়েস নোট এবং মেসেজ পর্যবেক্ষণ করত মোমিন। পুলিশ এখন এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
নবজাতক নিয়ে চূড়ান্ত সংঘাত:
গত ১০ মে সানা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। ১৬ মে সানা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে মোমিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে এই সন্তানকে মেনে নেবে না। সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে পরিবারের ভেতরে শুরু হওয়া এই তুমুল বিবাদই শেষ পর্যন্ত খুনের রূপ নেয়।
ঘটনার দিনের বিবরণ:
গত রবিবার পারিবারিক তিক্ততা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালে মোমিন তার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে বাবা রিয়াজউদ্দিন এবং স্ত্রী সানাকে গুলি করে হত্যা করে। খুনের পর পালানোর বদলে সে নিজেই পুলিশকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের খবর জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মোমিনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে।
আইনি পদক্ষেপ:
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর মরদেহগুলো পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিজিটাল রেকর্ডের ভিত্তিতে এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এক পরিবারের ভেতরকার এই পৈশাচিক ঘটনা পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।