এয়ারটেলের ‘প্রায়োরিটি ৫জি’ কি নেট নিউট্রালিটি লঙ্ঘন করছে? ডিওটি-র সামনে মুখ খুলল টেলিকম জায়ান্ট

নিজেদের নতুন ‘প্রায়োরিটি পোস্টপেইড’ পরিষেবা নিয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT)-এর কমিটির সামনে অবস্থান পরিষ্কার করল ভারতী এয়ারটেল। টেলিকম সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ৫জি নেটওয়ার্ক স্লাইসিং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে চালু করা তাদের এই প্রিমিয়াম পরিষেবাটি কোনোভাবেই ‘নেট নিউট্রালিটি’ বা নিরপেক্ষ ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘন করে না।

এয়ারটেলের দাবি: যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটির সামনে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের এই নতুন পরিষেবাটি সম্পূর্ণ কনটেন্ট-নিরপেক্ষ। এই প্ল্যানের মাধ্যমে কোনো অ্যাপ্লিকেশনের গতি কমানো, কোনো কনটেন্টকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা কোনো ওয়েবসাইট ব্লক করার মতো কাজ করা হয় না। এয়ারটেলের দাবি, এটি ট্রাই (TRAI) ও ডিওটি (DoT)-এর বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? এয়ারটেল জোর দিয়ে বলেছে যে, ৫জি-র মূল শক্তি হলো এর নেটওয়ার্ক স্লাইসিং প্রযুক্তি। যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যবহার করে পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি না পাওয়া যায়, তবে ভারতের ৬জি প্রযুক্তির পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রস্তুতির জন্য এই ধরনের উদ্ভাবন অপরিহার্য।

প্রিপেইড গ্রাহকরা কি বঞ্চিত হবেন? সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল প্রিপেইড গ্রাহকদের নিয়ে। এয়ারটেল এই আশঙ্কায় জল ঢেলে জানিয়েছে:

  • সক্ষমতা যাচাই: বর্তমানে তাদের মোট ৫জি ক্যাপাসিটির ৩৮% ব্যবহৃত হয়।

  • ট্র্যাফিক বিশ্লেষণ: পোস্টপেইড ট্র্যাফিক বর্তমানে ৪%। এই নতুন পরিষেবার ফলে তা সর্বোচ্চ ৬% পর্যন্ত হতে পারে।

  • নিশ্চয়তা: মোট ৫জি ক্যাপাসিটির প্রায় ৬০% প্রিপেইড এবং অন্যান্য নন-প্রায়োরিটি গ্রাহকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ফলে, প্রিমিয়াম গ্রাহকদের বাড়তি সুবিধা দিলেও সাধারণ প্রিপেইড গ্রাহকদের ইন্টারনেটের মানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে দাবি এয়ারটেলের।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ১৯ মে চালু হওয়া এই পরিষেবাটির লক্ষ্য ভিড়পূর্ণ এলাকাগুলোতেও গ্রাহকদের ধারাবাহিক এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট গতি প্রদান করা। এয়ারটেলের এই যুক্তিপূর্ণ উপস্থাপনা নেট নিউট্রালিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে প্রশমিত করতে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।