পাঞ্জাবে কি সময়ের আগেই নির্বাচন? সুখবীর বাদলের দাবিতে শোরগোল, পাল্টা তোপ দাগল আপ!

পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন হতে এখনও প্রায় এক বছর বাকি। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন থেকেই তুঙ্গে। প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও শিরোমণি আকালি দল (SAD) প্রধান সুখবীর সিং বাদলের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সুখবীরের দাবি, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, অর্থাৎ এই বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সুখবীরের দাবি ও যুক্তি:
সুখবীর বাদলের মতে, ভারত সরকার আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে আদমশুমারি করার পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি, এই আদমশুমারির আগেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। তাঁর কাছে এমন গোপন তথ্য আছে যে নির্বাচন অক্টোবরেই হতে পারে। যদিও তাঁর এই দাবিকে পাত্তাই দিচ্ছে না বর্তমান শাসক দল।
সরকারের পাল্টা আক্রমণ:
সুখবীরের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (AAP) সিনিয়র নেতা হরপাল সিং চিমা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সুখবীর বাদল এখন বিজেপির মুখপাত্রের মতো আচরণ করছেন। বিজেপি যা চায়, সুখবীর তাই বলছেন। তিনি ভুলে যাচ্ছেন যে নির্বাচন কমিশনই ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করে, বিজেপি বা অন্য কোনো দল নয়।” চিমা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাঞ্জাব সরকার তাদের পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদকাল সম্পন্ন করবে এবং নির্দিষ্ট সময়েই ভোট হবে।
নির্বাচনী আবহে কী ভাবছে দলগুলো?
আগামী বছরের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দল এখন থেকেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে:
আম আদমি পার্টি (AAP): উন্নয়ন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রচারের ওপরই তাদের মূল নজর।
কংগ্রেস: আইন-শৃঙ্খলা, বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের মতো জ্বলন্ত ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার কৌশল নিচ্ছে।
শিরোমণি আকালি দল (SAD): গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের আধিপত্য ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
বিজেপি: নতুন মুখ ও সাংগঠনিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে মরিয়া।
ভোটের বড় ইস্যু:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১৭ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। মাদক সমস্যা এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতি, কৃষক আন্দোলন এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান ইস্যুগুলো ভোটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে বড় লড়াইয়ের ‘সেমি-ফাইনাল’ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, সুখবীর বাদলের এই অকাল নির্বাচনের দাবি কতটা বাস্তব হয়, আর নির্বাচন কমিশনই বা কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।