‘দরিদ্রদের উন্নয়নেই আসল সাফল্য’, লখনউ থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের

‘পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও শক্তিশালী লখনউ’ গড়ার লক্ষ্যে মঙ্গলবার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা মূল্যের ৩৪২টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তিনি রাজ্যের নগর উন্নয়নের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। এদিন লখনউয়ের জুপিটার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নগর স্থানীয় সংস্থাগুলোর তিন বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে একটি বিশেষ পুস্তিকাও প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল ও উন্নয়নের জয়গান:
লখনউয়ের রূপান্তর নিয়ে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানে তিন দশক ধরে আবর্জনা ফেলা হতো, আজ সেখানে গড়ে উঠেছে ‘রাষ্ট্র প্রেরণা স্থল’। এটি এখন কেবল একটি পরিষ্কার জায়গা নয়, বরং একটি চমৎকার সমাবেশ কেন্দ্র ও জাদুঘর।” ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারত আজ এক দেশ, এক বিধান ও এক পতাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে।
প্রতিপক্ষকে কড়া নিশানা:
এদিন প্রাক্তন সমাজবাদী পার্টি (SP) সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ২০১৭ সালের আগে দরিদ্রদের জন্য সরকারি কোনো আবাসন প্রকল্প ছিল না। যোগী আদিত্যনাথের কথায়, “আমরা গত কয়েক বছরে শহরাঞ্চলে ১৭ লক্ষ এবং গ্রামীণ এলাকায় ৬৫ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে পাকা ঘর উপহার দিয়েছি। এই কাজ করার সময় আমরা কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণের ভেদাভেদ করিনি।”
অন্ত্যোদয়ের লক্ষ্য:
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শনের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো সমাজের শেষ সারির মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, “সমাজের উচ্চবিত্তের সমৃদ্ধি নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের অগ্রগতির নিরিখেই একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়নের বিচার হওয়া উচিত।”
কৃষক, নারী এবং যুবকদের ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লখনউসহ রাজ্যের ১৭টি পৌর কর্পোরেশন, ২০০টি পৌর পরিষদ এবং ৫০০টি নগর পঞ্চায়েতকে আরও শক্তিশালী করে তোলাই তাঁদের বর্তমান লক্ষ্য। আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের নগর পরিকাঠামোয় এই প্রকল্পগুলো বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।