বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন মোড়! ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত-কানাডা

ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের তিন দিনের কানাডা সফর এবং অটোয়াতে বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধুর সঙ্গে বৈঠকের পর এই নতুন সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। উভয় দেশই চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি সমন্বিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদী।
৫০ বিলিয়ন ডলারের টার্গেট:
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, বর্তমানে ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। এই লক্ষ্যকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করাই এখন দুই দেশের প্রধান লক্ষ্য। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দুই দেশের কর্মী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ‘যুগান্তকারী পরিবর্তন’ নিয়ে আসবে। বিশেষ করে জ্বালানি, কৃষি-খাদ্য, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলছে তৃতীয় দফার আলোচনা:
দুই দেশের মধ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (CEPA) নিয়ে আলোচনা বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে দুই দফার আলোচনা সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে এবং ২৫ থেকে ২৯ মে অটোয়াতে তৃতীয় দফার আলোচনা চলছে। ভারতের পক্ষে যুগ্ম সচিব ব্রিজ মোহন মিশ্র এবং কানাডার পক্ষে ব্রুস ক্রিস্টি এই আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বাণিজ্যিক আদান-প্রদান:
ভারত ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্যের বর্তমান চিত্রটি বেশ বৈচিত্র্যময়:
ভারত থেকে রপ্তানি: ঔষধপত্র, লোহা ও ইস্পাত, সামুদ্রিক পণ্য, সুতির বস্ত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
কানাডা থেকে আমদানি: ডাল, কয়লা, সার, কাগজ ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম।
এছাড়া, সেবা খাতের ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা ভারত ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের মূল স্তম্ভ। উল্লেখ্য, কানাডায় প্রায় ৪ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং সেখানে একটি বিশাল ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যা এই দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও শক্তিশালী করছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে তা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।