পুলিশের চোখের সামনেই টাওয়ারে উঠে আত্মঘাতী তরুণী! জশপুরের ঘটনায় স্তব্ধ এলাকা

ছত্তিশগড়ের জশপুর জেলার কুঙ্কুরি থানা চত্বরে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় মানুষ। মঙ্গলবার ভোররাতে কুঙ্কুরি থানা চত্বরের প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি মোবাইল ওয়্যারলেস টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যা করেছেন ২২ বছর বয়সী নীলিমা লাকরা নামের এক তরুণী।

হেল্পলাইনে ফোন ও পুলিশের প্রচেষ্টা:
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার ভোরে। ওই তরুণী আচমকাই পুলিশি সহায়তা নম্বর ‘১১২’-তে ফোন করে নিজের মানসিক কষ্টের কথা জানান। পুলিশ তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি থানা চত্বরের ওই টাওয়ারে উঠে পড়েন। নিচ থেকে পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা লাউডস্পিকারের মাধ্যমে অনবরত অনুরোধ করতে থাকেন যাতে তিনি নিচে নেমে আসেন। কিন্তু সমস্ত অনুনয়-বিনয় ব্যর্থ করে তিনি টাওয়ারের ওপর থেকেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন।

দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতায় ভুগছিলেন:
নিহত নীলিমা লাকরা ধুমাদণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তার মোবাইলের হিস্ট্রি থেকে জানা গেছে, তিনি প্রায়শই আত্মহত্যার বিভিন্ন ভিডিও দেখতেন, যা তার মানসিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ঘটনার আগের দিন, সোমবার, নিজের চার বছর বয়সী মেয়ের জন্ম সনদ এবং সরকারি নথিপত্র জোগাড় করতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

উদ্ধার অভিযানে হিমশিম:
তরুণীর আত্মহত্যার পর প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। টাওয়ারের অত্যাধিক উচ্চতা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে মরদেহটি নিচে নামিয়ে আনতে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলকে চূড়ান্ত বেগ পেতে হয়। এই ঘটনাটি দেখতে থানা চত্বরের বাইরে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। এএসপি রাকেশ পট্টনওয়ার, এসডিএম নন্দজি পান্ডে এবং এসডিওপি বিনোদ কুমার মান্ডভিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি তদারকি করেন।

পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনাটির পেছনে আর কোনো পারিবারিক অশান্তি বা গভীর কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।