হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের দাদাগিরি শেষ? মোদীর আরবে পৌঁছাতেই যুদ্ধের আবহে বড় চাল আমিরাতের!

বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি মানচিত্রে বড়সড় রদবদল ঘটাতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)। ২০২৬ সালের ৬ মার্চ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের দখলে চলে যাওয়ায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে এবার সরাসরি ‘বিকল্প’ পথে হাঁটল আবুধাবি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হরমুজ প্রণালীকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
মোদীর সফরের পরেই বড় ঘোষণা
মজার বিষয় হলো, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর ঠিক পরেই আবুধাবি মিডিয়া অফিস থেকে এই ঐতিহাসিক বিবৃতিটি আসে। যুবরাজ খালিদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সভাপতিত্বে ‘আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি’র (ADNOC) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফুজাইরাহ বন্দরকে কেন্দ্র করে এই নতুন পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ২০২৭ সালের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যা আমিরাতের তেল রপ্তানি ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে দেবে।
ইরানকে পাশ কাটানোর কৌশল
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান-সংঘাতের আবহে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাধ্য হয়ে ওমান ও সৌদি আরবের সড়কপথে প্রতিদিন অন্তত ৩,৫০০ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে আমিরাতকে। এই সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতেই সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে ফুজাইরাহ পাইপলাইনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ওপেক (OPEC) ত্যাগ ও মোদীর ভূমিকা
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের পর থেকেই ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সরব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
এদিকে, নিজের লক্ষ্যপূরণে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়ে ওপেক (OPEC) ও ওপেক প্লাস থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক ৫০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু ইরানকে কোণঠাসা করবে না, বরং বিশ্ববাজারে তেলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে আমিরাতকে কয়েক যোজন এগিয়ে দেবে।