রাতের অন্ধকারে কিসের ছক? জয়নগরে বহিরাগতদের ডেরায় পুলিশের হানা, কার্তুজ-বোমার মশলা উদ্ধারে চাঞ্চল্য

বড়সড় নাশকতার ছক নাকি অপরাধের নতুন ডেরা? জয়নগরে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে যে পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে, তাতে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকুলতলা থানার পুলিশ গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র-সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
গোপন ডেরায় পুলিশের হানা: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বকুলতলা থানা এলাকার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি ছিল, এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। এরপরই সক্রিয় হয় পুলিশ। সোমবার রাতে বকুলতলা থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অতর্কিত হানা দেয়। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ আধিকারিকদের।
উদ্ধার যা যা হলো: অভিযান শেষে পুলিশ একটি ওয়ান শটার আগ্নেয়াস্ত্র, বেশ কয়েক রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বারুদ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের মূল পান্ডা বা এই বিপুল অস্ত্র কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
আতঙ্কে গ্রামবাসীরা: এলাকায় বহিরাগতদের দাপট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন জয়নগরের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে জনহীন এলাকায় এই অপরাধীরা আস্তানা গেড়েছিল। পুলিশের এই সাফল্যের পর সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও, আর কোথাও এরকম অস্ত্রের কারখানা বা লুকোনো ডেরা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জেলাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
বকুলতলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অস্ত্র উদ্ধারের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক সংযোগ নাকি নিছকই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ডেইলহান্ট (DailyHunt) বিশেষ প্রতিবেদন।