রাতের অন্ধকারে ব্যারিকেড দিয়ে টাকা আদায়? মনোজ আগরওয়ালের এক নির্দেশে কাঁপছে তোলাবাজরা, বড় স্বস্তি চালকদের

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সড়ক ও হাইওয়েতে অবৈধভাবে ড্রপ গেট বা ব্যারিকেড বসিয়ে টাকা আদায়ের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। অনুমোদনহীন সব ধরণের টোল প্লাজা ও ড্রপ গেট অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য কড়া নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। প্রশাসনের এই নজিরবিহীন কড়াকড়িতে আমজনতা ও লরি চালকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্নর কড়া বার্তা: সম্প্রতি নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বৈধ লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনও রাস্তাতেই টোল আদায় করা যাবে না। বিশেষ করে জেলাগুলিতে অনেক সময় দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী বা কিছু সংস্থা নিয়ম না মেনেই ড্রপ গেট বসিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন থেকে টাকা আদায় করে। এবার সেই ধরণের সমস্ত ‘অবৈধ’ কারবার বন্ধ করতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সরাসরি ময়দানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যারিকেড দিয়ে ‘জোরজবস্তি’ নয়: অভিযোগ রয়েছে, অনেক জায়গায় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের নামে বেআইনিভাবে ব্যারিকেড বা দড়ি খাটিয়ে পার্কিং ফি-র নামে টোল তোলা হয়। মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি গাইডলাইন না মেনে কোনও রাস্তা আটকানো বা ব্যারিকেড দেওয়া আইনত অপরাধ। যদি কোথাও এরকম ঘটনা ঘটে, তবে তৎক্ষণাৎ তা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশিকা: প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও চালকরা যদি দেখেন কোনও টোল গেটে সঠিক অনুমোদন বা বৈধ কাগজ নেই, তবে তারা সরাসরি স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে পারেন। জাতীয় সড়ক হোক বা গ্রামীণ রাস্তা—জোর করে টাকা চাওয়ার সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য প্রশাসন।
মুখ্যসচিবের এই ‘চরম হুঁশিয়ারি’র পর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পুলিশি টহলদারি ও তল্লাশি শুরু হয়েছে। পরিবহন ব্যবসায়ীদের মতে, এই নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর হলে পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি চলাচলে গতি আসবে এবং অহেতুক হয়রানি বন্ধ হবে।