ChatGPT-কে এই ৭টি প্রশ্ন করেছেন কি মরেছেন! অজান্তে নিজের বিপদ ডেকে আনছেন না তো?

মেইল ড্রাফট করা থেকে শুরু করে কঠিন কোডিং সমাধান— বর্তমান সময়ে আমাদের হাতের মুঠোয় সব মুশকিল আসান করে দিচ্ছে ChatGPT। কিন্তু কৃত্রিম মেধার এই জাদুকরী ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা কি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি আপনার বন্ধু হতে পারে, কিন্তু সে কোনও পেশাদার ডাক্তার, উকিল বা ব্যাঙ্কার নয়। অজান্তে এমন কিছু প্রশ্ন আমরা ওকে করে ফেলি, যা ভবিষ্যতে বড়সড় আইনি বা আর্থিক বিপদের কারণ হতে পারে।
দেখে নিন কোন ৭টি বিষয় ভুলেও AI-কে জিজ্ঞাসা করবেন না:
১. পাসওয়ার্ড ও ব্যাঙ্কিং তথ্য:
“আমার ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি” বা “ওটিপি আসছে না কেন”— এই ধরণের প্রশ্ন চ্যাটজিপিটি-কে করা মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। মনে রাখবেন, ওপেনএআই (OpenAI)-এর সার্ভারে আপনার সমস্ত চ্যাট জমা থাকে। ডেটা লিক হলে আপনার সমস্ত গোপন তথ্য হ্যাকারদের হাতে পৌঁছে যেতে পারে।
বিকল্প: সরাসরি ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন।
২. চিকিৎসার পরামর্শ বা রিপোর্ট বিশ্লেষণ:
আপনার ব্লাড রিপোর্ট বা এমআরআই ফাইল আপলোড করে রোগ নির্ণয় করতে বলবেন না। এআই প্রায়ই ‘হ্যালুসিনেট’ করে, অর্থাৎ ভুল তথ্য খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশন করে। সাধারণ গ্যাসকে সে হার্ট অ্যাটাক বা ক্যানসার বলে ভুল করতে পারে।
বিকল্প: সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩. আইনি পরামর্শ বা কেস থেকে মুক্তি:
ভারতের আইন ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। পুরনো আইপিসি (IPC) বদলে এখন বিএনএস (BNS) এসেছে। চ্যাটজিপিটির ডেটা অনেক সময় পুরনো থাকে, ফলে সে আপনাকে ভুল ধারা বলতে পারে। এর ফলে কোর্টে আপনার আইনজীবীর মুখ পুড়তে পারে, এমনকি আপনার জেলও হতে পারে।
বিকল্প: নিবন্ধিত আইনজীবীর সাহায্য নিন।
৪. শেয়ার বাজারের টিপস:
“কোন শেয়ারে টাকা ঢাললে কাল ডবল হবে?”— এই প্রশ্ন করলে লাভ নয়, লোকসানের পাল্লা ভারি হবে। চ্যাটজিপিটি রিয়েল-টাইম মার্কেট দেখে না। ওর দেওয়া ভুল তথ্যে বিনিয়োগ করলে দায় আপনারই হবে।
বিকল্প: সেবি (SEBI) নথিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ নিন।
৫. অফিসের গোপন কোড বা তথ্য:
স্যামসাং-এর মতো বড় কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা অফিসের গোপন কোড চ্যাটজিপিটি-তে পেস্ট করে বিপদে পড়েছিলেন। আপনি যদি কোম্পানির কনফিডেনশিয়াল ডেটা এখানে দেন, তবে তা এআই মডেল ট্রেনের কাজে ব্যবহার হতে পারে। এতে আপনার চাকরি যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিকল্প: ডামি ডেটা ব্যবহার করে লজিক বুঝে নিন, আসল তথ্য দেবেন না।
৬. মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার প্রবণতা:
মানসিক অবসাদ বা আত্মহত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই-এর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সে সহানুভূতি দেখালেও সঠিক ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ করতে পারে না।
বিকল্প: ভারতের ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১৪৪১৬ নম্বরে ফোন করুন বা মনোবিদের সাহায্য নিন।
৭. ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র (আধার/প্যান নম্বর):
নিজের বা অন্যের আধার কার্ড, প্যান নম্বর বা ভোটার আইডি এআই-কে দেবেন না। এই ডেটা অপব্যবহার করে আপনার নামে জাল লোন নেওয়া বা ভুয়ো সিম কার্ড তোলার মতো জালিয়াতি হতে পারে।
বিকল্প: লোন বা সিভিল স্কোরের জন্য সরাসরি ব্যাঙ্কের পোর্টাল ব্যবহার করুন।
সুরক্ষিত থাকার ৩টি গোল্ডেন রুল:
পরিচয় গোপন রাখুন: নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর চ্যাটজিপিটি-কে দেবেন না।
ভেরিফাই করুন: এআই যা বলছে, তা গুগল বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করে নিন।
সংবেদনশীল বিষয়ে ‘না’: স্বাস্থ্য, টাকা এবং আইন— এই তিনটি বিষয়ে এআই-এর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়বেন না।
শেষ কথা:
চ্যাটজিপিটি একটি ধারালো ছুরির মতো। এটি দিয়ে আপনি সবজি কাটবেন নাকি নিজের হাত, তা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের ওপর। মনে রাখবেন, আপনার ডিলিট করা চ্যাটও সার্ভারে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই কৃত্রিম মেধা ব্যবহারের সময় সতর্কতাই আপনার সেরা হাতিয়ার।