মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর ৩টি বিদেশি পাসপোর্ট? শপথ নিয়েই পবন খেরাকে তলব হিমন্তের, গুয়াহাটিতে ধুন্ধুমার!

দ্বিতীয়বার আসামের কুর্সিতে বসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন মুডে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার আসাম পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দপ্তরে হাজিরা দিতে হলো কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা পবন খেরাকে। মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকী ভূঁইয়া শর্মার দায়ের করা মানহানির মামলায় এদিন খেরাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়।

বিস্ফোরক অভিযোগ বনাম আইনি লড়াই
এই সংঘাতের সূত্রপাত পবন খেরার এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ সম্মেলন থেকে। খেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকী ভূঁইয়া শর্মার কাছে একটি নয়, বরং তিনটি বিদেশি ‘লিভিং পাসপোর্ট’ রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই পাসপোর্টগুলো আবুধাবি, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া বারবুডার। খেরা প্রশ্ন তোলেন, তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট থাকলে রিনিকী দেবী কি আদেও ভারতের নাগরিক? এর পাশাপাশি বিদেশে বিপুল পরিমাণ অঘোষিত সম্পত্তি রাখার অভিযোগও আনেন তিনি।

এই অভিযোগকে ‘মনগড়া ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা আইনি পথে হাঁটেন রিনিকী ভূঁইয়া শর্মা। গুয়াহাটি হাইকোর্ট খেরার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করলেও, গত ১ মে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে স্বস্তি দেয়। তবে শীর্ষ আদালত শর্ত দিয়েছিল যে, খেরাকে আসাম পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।

তদন্তের মুখে পবন খেরা: কী বললেন তিনি?
বুধবার গুয়াহাটিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসে প্রবেশের আগে আত্মবিশ্বাসী দেখাল কংগ্রেস মুখপাত্রকে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “তদন্ত চলতে দিন। আমাকে তলব করা হয়েছে, তাই আমি আইন মেনে হাজিরা দিতে এসেছি। আমরা বিচার বিভাগ ও দেশের আইনকে অত্যন্ত সম্মান করি।”

অন্যদিকে, পবন খেরার আইনজীবী রীতম সিং জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁর মক্কেল বক্তব্য রেকর্ড করতে এসেছেন। খেরা যে তথ্যের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পত্তির অভিযোগ এনেছিলেন, সেই সংক্রান্ত নথি ও প্রমাণাদিও তিনি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই এই আইনি লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে কংগ্রেস যখন দুর্নীতির অভিযোগে সরব, অন্যদিকে বিজেপি একে জনগণের নজর ঘোরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং খেরা যদি তাঁর অভিযোগের সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ দিতে পারেন, তবে আসামের রাজনীতিতে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি হতে পারে।

আপাতত সবার নজর ক্রাইম ব্রাঞ্চের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। হিমন্ত-পত্নীর নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা এই ধোঁয়াশা কি কাটবে, নাকি লড়াই পৌঁছাবে অন্য কোনো মোড়ে?