ইরান যুদ্ধ ও তেলের বাজারে আগুন! ভারতের অর্থনীতি কী তবে খাদের কিনারে? এসঅ্যান্ডপি-র রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এবং বিশ্বজুড়ে তেলের আকাশছোঁয়া দামের জেরে কি সংকটে পড়তে চলেছে ভারতের অর্থনীতি? ইরান যুদ্ধের আবহে যখন রুপির দর রেকর্ড তলানিতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড়সড় এবং ইতিবাচক রিপোর্ট পেশ করল আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global Ratings)।

“উদ্বেগ অতিরঞ্জিত”, দাবি এসঅ্যান্ডপি-র
শুক্রবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস-এর আন্তর্জাতিক পাবলিক ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ইয়েফার্ন ফুয়া জানান, ভারত বর্তমানে যে বৈশ্বিক আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সামাল দেওয়ার পর্যাপ্ত সামর্থ্য এই দেশটির রয়েছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (CAD) কিছুটা বাড়লেও, তা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না।

ফুয়া আরও স্পষ্ট করেন যে, ভারত থেকে বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে যে ভয় তৈরি হয়েছে, তা আসলে কিছুটা “অতিরঞ্জিত”। তাঁর মতে, সামগ্রিক বিনিয়োগ এখনও শক্তিশালী এবং বর্তমানের বহির্গমন মূলত ব্যবসায়িক মুনাফা প্রত্যর্পণের ফল। ভারতের অর্থনীতি যে প্রকৃতপক্ষে মজবুত এবং এখানে বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে, সেই বিশ্বাসই তাঁর গলায় ধ্বনিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত আগস্টেই ভারতের ক্রেডিট রেটিং স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসহ ‘BBB-’ থেকে উন্নীত করে ‘BBB’ করেছে এই সংস্থা।

সোনায় বাড়ছে শুল্ক: সরকারের জরুরি পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত রুখতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে তৎপর হয়েছে ভারত সরকার। সেই লক্ষ্যেই এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। ২০২৬ সালের ১৩ই মে থেকে কার্যকরভাবে সোনা-সহ বেশ কিছু মূল্যবান ধাতুর ওপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শুল্কের নতুন হার:

পুরানো শুল্ক: ৬ শতাংশ

নতুন কার্যকর শুল্ক: ১৫ শতাংশ

সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমিয়ে ডলারের বহির্গমন রোধ করা এবং রুপির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিশ্ববাজারে ডামাডোল চললেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে ভারত যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথে হাঁটছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসঅ্যান্ডপি-র এই ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ লগ্নিকারীদের মনে ভারতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আস্থা জোগাবে।