ইনস্টাগ্রামের প্রেম গড়াল শ্রীঘরে! ভোপালের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে উজবেক সুন্দরীর সঙ্গে কী করছিলেন বাংলার যুবক?

সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়ার প্রেম যে এমন পরিণতি পাবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি পশ্চিমবঙ্গের যুবক সাজিদ হোসেন। ভোপালের অভিজাত শাহপুরা এলাকায় এক রহস্যময়ী বিদেশী তরুণীর সঙ্গে গোপনে বসবাস করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। উদ্ধার হওয়া ওই তরুণী উজবেকিস্তানের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। কোনো বৈধ নথি ছাড়াই তিনি ১০ দিন ধরে ওই এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন।

সন্দেহ থেকেই পর্দাফাঁস:
ঘটনার সূত্রপাত হয় শাহপুরা থানা এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে। বাড়ির মালিকের বয়ান অনুযায়ী, তার ভাড়াটিয়া সাজিদ হোসেন হঠাৎ করেই তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেন। তার আচরণে অস্বাভাবিকতা এবং পালানোর ইঙ্গিত পেয়েই বাড়ির মালিক তড়িঘড়ি স্থানীয় থানায় খবর দেন। শাহপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিআই) সন্তোষ মাকরামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার হয় আসল রহস্য। ঘরের ভেতর থেকেই আটক করা হয় ওই বিদেশী তরুণীকে।

ইনস্টাগ্রাম থেকে ভোপালের আস্তানা:
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আটক তরুণীর নাম নীলুফার বখরোমোখা, যিনি উজবেকিস্তানের নাগরিক। সাজিদের সঙ্গে তার পরিচয়ের মাধ্যম ছিল জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। দীর্ঘদিনের কথোপকথন ও ঘনিষ্ঠতার জেরে সাজিদের আমন্ত্রণে প্রায় ১০ দিন আগে ভোপালে পা রাখেন নীলুফার। এরপর থেকেই পুলিশের নজর এড়িয়ে সাজিদের সঙ্গেই লিভ-ইন করছিলেন তিনি।

নথিপত্রে বড়সড় গরমিল:
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখেছে, নীলুফারের কাছে ভারতে থাকার কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে তিনি কীভাবে ভোপালে পৌঁছালেন, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, সাজিদ হোসেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে দাবি করলেও পুলিশ তার নথিপত্র এবং পরিচয়পত্রের সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই করছে।

তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা ও দূতাবাস:
পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ মাকরাম জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিদেশী নাগরিক এলাকায় এলে স্থানীয় থানাকে জানানো বাধ্যতামূলক। সাজিদ শুধু তথ্য গোপনই করেননি, বরং অবৈধভাবে এক বিদেশীকে আশ্রয় দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, এর পেছনে কি কেবলই প্রেম নাকি কোনো বড় ধরণের আন্তর্জাতিক চক্র বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ জড়িত? ভোপালে আসার আগে ওই তরুণী ভারতের আর কোনো কোনো শহরে গিয়েছিলেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশী দূতাবাসকে জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত সাজিদ ও নীলুফার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।