‘বেআইনি ব্যবসা আর চলবে না, FIR হবেই!’ তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে মেজাজ হারিয়ে রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী

সাতসকালে তিলজলায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড। কারখানার ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দুই শ্রমিকের। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনার খবর পেয়েই নবান্ন থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের বুকে বেআইনি কারখানার দৌরাত্ম্য রুখতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে সরকার।
কী ঘটেছিল তিলজলায়?
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে তিলজলা থানা এলাকার একটি চামড়ার গুদাম কাম কারখানায় আচমকাই আগুন লাগে। এলাকাটি ঘিঞ্জি হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে কাজ করতে থাকা শ্রমিকরা বাইরে বেরোনোর সুযোগ পাননি। খবর পেয়ে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ঘিঞ্জি গলির কারণে কাজে বেগ পেতে হয়। পরে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই কর্মীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মুখ্যমন্ত্রীর রণংদেহী মেজাজ:
এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি সাফ জানান, “বেআইনি কারখানা এবং নিয়মবহির্ভূত ব্যবসা আর চলবে না। এটাই শেষ ঘটনা হিসেবে ধরে নিন। আইনের শাসন হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন:
রিপোর্ট তলব: মুখ্যসচিবকে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কড়া আইনি ব্যবস্থা: দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আর্থিক সাহায্য: মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের তৎপরতা:
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই নড়চড়ে বসেছে লালবাজার ও নবান্ন। তিলজলা, তপসিয়া বা টাংরার মতো এলাকায় যেখানে ঘনবসতির মধ্যে ছোট ছোট কলকারখানা চলে, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
তিলজলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় অনেক বেআইনি কারখানা চলে, যেখানে ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি মানা হয় না। আজকের দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি কি বদলে দেবে পরিস্থিতির ছবি? এখন সেটাই দেখার।