মাসে ৩০০০ টাকা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বদলে এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’, টাকা ঢোকার আগে দ্রুত সারুন এই কাজ

রাজ্যের মসনদে পরিবর্তনের সাথে সাথেই কি আমূল বদলে যেতে চলেছে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভোল? ভোট প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে এবার বড়সড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যারা এতদিন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসে ১৫০০ বা ১৭০০ টাকা করে পেতেন, তাঁদের জন্য এবার খুশির খবর যেমন আছে, তেমনই রয়েছে কড়া সতর্কবার্তা।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে টেক্কা দিয়ে আসছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার:
মমতা সরকারের আমলে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ছিল রাজ্যের মহিলাদের কাছে সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প। ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে এই ভাতা বর্তমানে ১৫০০ টাকা (সাধারণ) এবং ১৭০০ টাকা (তপশিলি) পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, এই ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। নব্য ঘোষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।

বাতিল হতে পারে ভাতা! নজর দেওয়া হচ্ছে নথিতে:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের নামই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন এখন পুরনো গ্রাহকদের প্রোফাইল এবং অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করছে। বেশ কিছু নথিতে গরমিল থাকলে বা তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাতিল হয়ে যেতে পারে আপনার ভাতা।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিশ্চিত করতে যা যা করা জরুরি:
১. নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংযোগ: আবেদনকারীর নামে অবশ্যই একটি বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। আধার সংযোগ না থাকলে সরকারি টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না।
২. বৈধ রেশন কার্ড ও আয়ের শংসাপত্র: ভাতা পেতে হলে আবেদনকারীর নামে বৈধ ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকতে হবে। পাশাপাশি পারিবারিক বার্ষিক আয় হতে হবে ২.৫ লক্ষ টাকার কম।
৩. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি: আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, বসবাসের প্রমাণপত্র এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর সযত্নে রাখতে হবে। সরকারি ভেরিফিকেশনের সময় এগুলি প্রয়োজন হতে পারে।

কাদের মিলবে না এই সুবিধা?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের গাইডলাইন অনুযায়ী, আবেদনকারীর নামে যদি পাকা বাড়ি, চার চাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকে, তবে তিনি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না। আয়ের সীমা লঙ্ঘন করলেও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

কন্যাশ্রী, যুবশ্রী বা যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলো নিয়ে চর্চা থাকলেও বর্তমানে সাধারণ মানুষের নজর এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের দিকে। জুন মাস থেকেই এই নতুন সুবিধা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দেরি না করে আপনার ব্যাঙ্কের সাথে আধার সংযোগ এবং অন্যান্য নথিপত্র এখনই গুছিয়ে রাখুন।