বিরল এই একাদশীতেই খুলবে ভাগ্যের দুয়ার! ২৬ না ২৭ মে—কবে উপবাস রাখলে তুষ্ট হবেন নারায়ণ?

সনাতন ধর্মে একাদশী তিথি মানেই শ্রীহরির আরাধনার শ্রেষ্ঠ সময়। তবে সব একাদশীর মধ্যে ‘পদ্মিনী একাদশী’র গুরুত্ব একেবারেই আলাদা এবং অত্যন্ত বিরল। কারণ, এই তিথিটি কেবলমাত্র হিন্দু পঞ্জিকার ‘অধিক মাস’ বা মলমাসে আসে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ সালে ফের আসতে চলেছে এই পুণ্যযোগ। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে কেবল মোক্ষ লাভই হয় না, দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় ঘুচে যায় জাতকের সারা জীবনের আর্থিক অনটন।
পদ্মিনী একাদশী ২০২৬: দিনক্ষণ ও শুভ মুহূর্ত
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পদ্মিনী একাদশী তিথি নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। তবে উদয় তিথি মেনে দিনটি নির্ধারণ করাই শাস্ত্রসম্মত।
একাদশী তিথি শুরু: ২৬শে মে, মঙ্গলবার ভোর ৫:১১ মিনিটে।
একাদশী তিথি শেষ: ২৭শে মে, বুধবার সকাল ৬:২২ মিনিটে।
ব্রতের তারিখ: উদয় তিথি অনুসারে ২৭শে মে, ২০২৬, বুধবার পদ্মিনী একাদশীর ব্রত পালন করা হবে।
কখন ভাঙবেন ব্রত (পারণের সময়)?
একাদশীর পূর্ণ ফল পেতে সঠিক সময়ে পারণ করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম অনুযায়ী দ্বাদশী তিথিতে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়।
পারণের সময়: ২৮শে মে, বৃহস্পতিবার সকাল ৫:৪৫ থেকে ৭:৫৭ মিনিটের মধ্যে।
কেন এই একাদশী অন্য সব একাদশীর চেয়ে আলাদা?
শাস্ত্র মতে, পদ্মিনী একাদশী পালন করলে হাজার যজ্ঞ করার সমান পুণ্য অর্জিত হয়। যেহেতু এটি অধিক মাসে পড়ে, তাই এই সময় ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে কয়েক গুণ বেশি ফল পাওয়া যায়। কথিত আছে, যারা সন্তান সুখ বা দাম্পত্য কলহ থেকে মুক্তি চান, তাদের জন্য এই ব্রত মহৌষধের মতো কাজ করে। এটি কেবল পাপ মোচন করে না, মানুষকে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি দিয়ে মোক্ষ প্রদান করে।
পূজা পদ্ধতি ও বিশেষ নিয়ম
১. ব্রহ্ম মুহূর্ত: এই দিনে সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন হলুদ রঙের পোশাক পরুন।
২. পূজা: বাড়ির মন্দিরে বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর মূর্তিতে হলুদ ফুল, তুলসী পাতা এবং চন্দন নিবেদন করুন।
৩. মন্ত্র জপ: সারা দিন ‘ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্রটি মনে মনে জপ করুন।
৪. দান: সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষকে অন্ন বা বস্ত্র দান করুন। এটি এই তিথিতে বিশেষ ফলদায়ী।
ভুল করেও যা করবেন না:
পদ্মিনী একাদশীর দিন কিছু কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যেমন—
এই দিনে বাড়িতে আমিষ খাবার বা পেঁয়াজ-রসুন স্পর্শ করবেন না।
একাদশীর দিন চাল বা ভাত খাওয়া শাস্ত্র বিরুদ্ধ।
কারও প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করবেন না এবং মিথ্যে কথা থেকে দূরে থাকুন।
আপনার জীবনের বাধা কাটাতে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই বিরল তিথিটিকে কাজে লাগান। সঠিক নিয়ম মেনে শ্রীহরির উপাসনা করলে পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি আসতে বাধ্য।