‘প্রযুক্তি না শিখলে পস্তাতে হবে’, যুবকদের কড়া বার্তা যোগীর! পোখরান থেকে ব্রহ্মোস—কী লিখলেন চিঠিতে?

প্রযুক্তি এবং সময়—এই দুইয়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। যারা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিতে শিক্ষিত হবে না, তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে। জাতীয় প্রযুক্তি দিবসে ঠিক এই ভাষাতেই উত্তরপ্রদেশের যুব সমাজকে সতর্ক ও অনুপ্রাণিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ১১ মে, ২০২৬-এ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ‘যোগীর চিঠি’ শিরোনামে এক বিশেষ বার্তা শেয়ার করেছেন তিনি।

প্রযুক্তি আসলে সময়েরই আয়না
নিজের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “আমার তরুণ বন্ধুরা, প্রযুক্তি ঠিক সময়ের মতো। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা মানে সময়ের থেকে পিছিয়ে পড়া। আর এই লড়াইয়ে টিকে থাকার অর্থ হলো একটি শক্তিশালী বর্তমান এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিশ্চিত পা বাড়ানো।” তিনি সাফ জানিয়েছেন, আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তি কেবল উন্নয়নের মাধ্যম নয়, এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার প্রধান স্তম্ভ।

কেন আজকের দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, ১১ মে দিনটি ভারতীয়দের শৌর্য ও মেধার প্রতীক। ১৯৯৮ সালের এই দিনেই অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন শক্তি’-র মাধ্যমে পোখরানে তিনটি সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল ভারত। একই দিনে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান ‘হংস-৩’ এবং ‘ত্রিশূল’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা বিশ্বজুড়ে ভারতের দাপট বুঝিয়ে দিয়েছিল।

উত্তরপ্রদেশের টার্গেট: ভারতের ‘ডিপ টেক ক্যাপিটাল’
যোগী আদিত্যনাথ তাঁর চিঠিতে ড্রোন টেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং মেড-টেকের মতো আধুনিক ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, “উত্তরপ্রদেশে উদ্ভাবন, বিশ্বজুড়ে প্রসার”—এই লক্ষ্যেই কাজ করছে তাঁর সরকার। লখনউ থেকে গাজিয়াবাদ—আইটি পার্ক ও স্টার্টআপের জোয়ারে যোগী রাজ্য এখন বিশ্বের অন্যতম বিনিয়োগের গন্তব্য। এমনকি ঘাতক ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্রও এখন উত্তরপ্রদেশের মাটিতে তৈরি হচ্ছে।

অনুপ্রেরণার নাম শুভংশু শুক্লা
চিঠিতে উত্তরপ্রদেশের ভূমিপুত্র ও মহাকাশচারী শুভংশু শুক্লার সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি তাঁর মহাকাশ যাত্রা ১৪০ কোটি ভারতীয়কে গর্বিত করেছে। যোগীর মতে, শুভংশুর এই যাত্রা প্রযুক্তির এক অলৌকিক ঘটনা যা আগামী প্রজন্মের জন্য বড় উদাহরণ।

ভবিষ্যতের পথ
মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, তরুণ প্রজন্ম যেন কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী না হয়ে উদ্ভাবক হয়ে ওঠে। নতুন প্রযুক্তি শেখা এবং উদ্ভাবনকে আপন করে নেওয়াই হবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই যাত্রাই উত্তরপ্রদেশকে একটি আত্মনির্ভর এবং শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত করবে।