১০ হোক বা ৩০ বছর— বন্ধ হচ্ছে না কিছুই! প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আমজনতাকে বড় স্বস্তি দিলেন শুভেন্দু

বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে আজ থেকে শুরু হলো এক নতুন যুগ। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটালেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকার বদলালেও আগের জমানার কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হচ্ছে না।
১০ হোক বা ৩০— প্রকল্প চলবেই
অনেকের মনেই আশঙ্কা ছিল, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’-র মতো প্রকল্পগুলো কি ইতিহাস হয়ে যাবে? এদিন সব জল্পনায় জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে থেকে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হবে না। তা ১০ বছরের পুরনো হতে পারে বা ৩০ বছরের— বাম বা তৃণমূল জমানার সমস্ত জনহিতকর সুবিধা বজায় থাকবে। তবে আমরা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ‘পেপারলেস’ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করব।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তালিকায় থাকা নামগুলো যাচাই করা হবে যাতে কোনো মৃত ব্যক্তি এই সুবিধা নিতে না পারেন।
‘আমিত্ব’ নয়, জোর ‘আমরা’ নীতিতে
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই সরকার ‘আমিত্ত্বে’ বিশ্বাস করে না। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। সমালোচকরাও যাতে খুঁত ধরতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই এগোবে এই প্রশাসন।” নবান্নের ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আয়োজিত এই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক।
নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ
এবারের নির্বাচনকে ‘ভয়মুক্ত ও মৃত্যুহীন’ বলে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন বাদে বাংলার মানুষ এমন একটা ভোট দেখল যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। এর জন্য ৯৩ শতাংশ ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের পুরো টিমকে মন্ত্রিসভা থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”
প্রথম দিনেই ৬টি বড় সিদ্ধান্ত
এদিনের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে মোট ৬টি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে চালু করা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়ানো— একগুচ্ছ ঘোষণা করে প্রথম দিনেই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন শুভেন্দু। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে ভূমি দফতর এবং অন্যান্য বিভাগে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার এই প্রথম বৈঠকের সুর থেকেই পরিষ্কার, আগের সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয় বরং ‘সুশাসন’ বা গুড গভর্নেন্সকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে নতুন বিজেপি সরকার।