মমতা হারলেই কাটবেন চুল! ১৫ বছরের ভয়ংকর শপথ পূরণ করলেন বাদুড়িয়ার এই বাম সমর্থক!

রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি আনুগত্য এবং জেদ যে কতটা হিমালয় সদৃশ হতে পারে, তার এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা আশুতোষ পাল। এলাকায় তিনি ‘তুলসী’ নামেই পরিচিত। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চুল ও দাড়ি না কাটার যে কঠিন শপথ তিনি নিয়েছিলেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে সেই প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করলেন এই একনিষ্ঠ বাম সমর্থক।

কেন এই সংকল্প?
ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার সময় বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকায় বাম কর্মীদের ওপর ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের ওপর রাজনৈতিক অত্যাচারের প্রতিবাদে তখনই এক অভিনব সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন আশুতোষ বাবু। তিনি ঠিক করেছিলেন, যতদিন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন ঘটবে, ততদিন তিনি ক্ষৌরকর্ম করবেন না। অর্থাৎ, নাপিতের কাঁচি বা ক্ষুর তাঁর মাথায় বা মুখে ছোঁয়াবেন না।

১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা
দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দেড় দশক। বার্ধক্য এলেও আশুতোষ পালের সংকল্পে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। দীর্ঘ জটাধারী চুল আর লম্বা দাড়ি নিয়েই তিনি প্রতিদিন নিজের চায়ের দোকান চালিয়ে গিয়েছেন। এলাকায় তিনি কার্যত ‘জটাধারী বামকর্মী’ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিলেন। অবশেষে ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর, নিজের সেই দীর্ঘ জটাভার নামিয়ে ফেললেন তিনি। রবিবার খাসপুর গ্রামে ঘটা করে চুল ও দাড়ি কাটেন তিনি, যা দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু সাধারণ মানুষ।

“আজ আমি মুক্ত”
চুল কাটার পর আবেগপ্রবণ কণ্ঠে আশুতোষ পাল বলেন, “দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ওপর যে অবিচার আমি দেখেছিলাম, তার বিরুদ্ধেই ছিল আমার এই দীর্ঘ নীরব প্রতিবাদ। আজ আমি মুক্ত। আমার প্রতিজ্ঞা ছিল মমতা সরকারের পতনের পরেই চুল কাটব, আজ সেই কথা রাখলাম।”

দলের কুর্নিশ
আশুতোষের এই অদম্য মানসিক শক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয় বাম নেতৃত্বও। বাদুড়িয়া ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সদস্য শংকর ঘোষ বলেন, “তুলসী আমাদের লড়াইয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ২০১১ সালে যখন আমাদের কর্মীদের নামে ভুরি ভুরি মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছিল, তখনই ও এই শপথ নিয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর এই সংকল্প ধরে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদীয় রাজনীতিতে হার-জিত থাকলেও, আশুতোষ পালের এই অনড় জেদ রাজনৈতিক আনুগত্যের ইতিহাসে এক বিরল উদাহরণ হয়ে থাকবে। বর্তমানে সমগ্র বাদুড়িয়া এলাকা জুড়ে এই ‘জটাধারী’ বামকর্মীর ভোলবদল নিয়ে চলছে জোর চর্চা।