শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী খুনে তোলপাড়! টোলপ্লাজায় ১টি ডিজিটাল পেমেন্টেই খেল খতম, উত্তরপ্রদেশ থেকে পাকড়াও ৩ ঘাতক!

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID)। দীর্ঘ কয়েকদিনের টানটান উত্তেজনা এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের পর অবশেষে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন সন্দেহভাজনকে। সোমবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে তাদের কলকাতায় আনা হয় এবং সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় ভবানীভবনে। সেখানে বর্তমানে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

ইউপিআই ট্রানজাকশন ও ডিজিটাল ফাঁদ
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনিদের হদিশ পেতে সবথেকে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় একটি ডিজিটাল লেনদেন। বালি টোলপ্লাজায় করা একটি সামান্য ইউপিআই (UPI) ট্রানজাকশনই ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তদের অবস্থান। সেই সূত্র ধরেই রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দেয়। কয়েকদিন ধরে সেখানে ছদ্মবেশে নজরদারি চালানোর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা দেয় তিন অভিযুক্ত। শুধু ইউপিআই নয়, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং টোল প্লাজার ডেটা বিশ্লেষণ করে খুনের পুরো রুট ম্যাপ তৈরি করেছিলেন গোয়েন্দারা।

পরিকল্পিত ‘সুপারি কিলিং’?
রাজ্য পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ইলেকট্রনিক প্রমাণ আমাদের তদন্তে জাদুর মতো কাজ করেছে। আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করে ভবানীভবনে এনেছি।” গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই খুন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা এক পরিকল্পিত ‘অপারেশন’। খুনিরা কতদিন ধরে চন্দ্রনাথের ওপর নজর রাখছিল এবং এই খুনের নেপথ্যে বড় কোনো অপরাধচক্র বা ‘সুপারি কিলিং’-এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফিরে দেখা সেই রক্তক্ষয়ী রাত
কয়েকদিন আগে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়, যা তাঁর বুক ও পেটে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারী নিজে হাসপাতালে পৌঁছান এবং ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয় রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের হাতে।

আগামী দিনে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত
গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে জেরা করে এখন এই খুনের ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। কার নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছিল এবং ঘটনার পর কারা তাদের পালাতে সাহায্য করেছিল, সেই সংক্রান্ত কয়েটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে বলে খবর। অনুমান করা হচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলায় আরও কিছু চাঞ্চল্যকর নাম সামনে আসতে পারে।

রাজ্যের হাই-প্রোফাইল এই খুনের কিনারা করতে এখন গোয়েন্দাদের তুরুপের তাস ওই তিন ধৃত। তদন্তের মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।