শ্বশুরকে খুনের পর মুখে ঢালা হলো বিষ! বাদুড়িয়ার তেঁতুলিয়া ব্রিজে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড, পুলিশের জালে ‘ঘাতক’ জামাই!

পারিবারিক বিবাদ যখন চরম নৃশংসতায় রূপ নেয়, তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তারই সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া। মেয়ের দাম্পত্য কলহ মেটাতে গিয়ে জামাইয়ের হাতেই প্রাণ দিতে হলো শ্বশুরকে— এমনটাই অভিযোগ উঠেছে বাদুড়িয়া থানার তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম কাজি মোজাফফার আহমেদ (৪৯)। তবে খুনের পর ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার যে ছক কষা হয়েছিল, তা দেখে রীতিমতো তাজ্জব দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও।

ঘটনার নেপথ্যে রোমহর্ষক বিবরণ
রবিবার রাতে তেঁতুলিয়া ব্রিজের কাছে ভাটার রাস্তা থেকে মোজাফফারের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। প্রত্যক্ষদর্শী হুমায়ুন কবীরের বয়ান অনুযায়ী, মাগরিবের নমাজের সময় তিনি খবর পান যে, একটি ইকো গাড়িতে করে আসা কয়েকজন যুবক একজনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাটির ওপর পড়ে রয়েছে মোজাফফারের দেহ। পাশেই পড়ে ছিল তাঁর বাইক এবং ঘাতকদের ফেলে যাওয়া চার চাকার গাড়িটি।

খুনকে আত্মহত্যা দেখানোর চেষ্টা?
স্থানীয়দের দাবি, মোজাফফারের গলায় শ্বাসরোধ করার স্পষ্ট দাগ ছিল। অথচ লাশের পাশেই পড়ে ছিল ঘাস মারার বিষের বোতল। অভিযোগ উঠেছে, শ্বাসরোধ করে খুনের পর অপরাধের প্রমাণ লোপাট করতে এবং বিষয়টিকে ‘চরম পদক্ষেপ’ বা আত্মহত্যা বলে সাজাতে মৃতের মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়।

পারিবারিক আক্রোশ না কি সুপারি কিলিং?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, স্বরূপনগরের বাসিন্দা শামীম গাজীর সঙ্গে মোজাফফারের মেয়ের দীর্ঘদিনের অশান্তি চলছিল। সেই কারণে মেয়ে আরিফা খাতুন বর্তমানে বাবার বাড়িতেই ছিলেন। আরিফার অভিযোগ, তাঁর স্বামী শামীম এর আগেও শ্বশুরকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়ে আরিফা বলেন, “বাবা সকালে ১০০ টাকা নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন, বলেছিলেন তাড়াতাড়ি ফিরবেন। সন্ধ্যায় নাতনিকে নিয়ে নমাজ পড়তে বসতে বলেছিলেন। কিন্তু আর ফেরা হলো না।”

তদন্তে পুলিশ: নজরে ইকো গাড়ি ও ডিজিটাল সূত্র
ঘটনার খবর পেয়েই বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক গাড়ি ও নিহতের বাইকটি বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই জামাই শামীম গাজী-সহ দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো পেশাদার সুপারি কিলারের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ প্রশাসন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।

এই নৃশংস ঘটনায় তেঁতুলিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।