১৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে নবান্নে নতুন মুখ্যমন্ত্রী! ২০৭টি পদ্মে সেজেছে পার্টি অফিস, আজই কি কড়া দাওয়াই প্রশাসনের?

রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নে প্রবেশ করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকাল থেকেই নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ঘিরে সাজো সাজো রব। একদিকে যেমন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে, তেমনই অন্যদিকে গোটা চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায়।
প্রথম দিনেই নজরে আইনশৃঙ্খলা: পুলিশকর্তাদের সঙ্গে জরুরি তলব
ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আজই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের ডিজি (DG), এডিজি (ADG), আইজি (IG) থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সূত্রের খবর, সোমবারের এই মেগা বৈঠকে তলব করা হয়েছে সব জেলার এসপি (SP) এবং কমিশনারেটের সিপি-দেরও। বাদ পড়ছেন না জিআরপি-র (GRP) শীর্ষ আধিকারিকরাও। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে আজই বড় কোনো ‘মাস্টার প্ল্যান’ দিতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি দফতরে পদ্ম-বরণ
নবান্নের কর্মসূচি সেরে মুখ্যমন্ত্রী আজ প্রথমবার যাবেন সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরে। তাঁর সংবর্ধনায় দফতর সাজানো হচ্ছে ২০৭টি পদ্মফুল দিয়ে। ভারতমাতা এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান সেরে তিনি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠকে বসবেন।
‘কথা কম, কাজ বেশি’— লক্ষ্য স্থির শুভেন্দুর
উল্লেখ্য, গত ৯ মে শনিবার ২৫শে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তিনিয়া। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর জেলা থেকে উঠে আসা কোনো ভূমিপুত্রকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে বাংলা।
শপথের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “নতুন সরকার কথা কম বলবে এবং কাজ বেশি করবে।” আজ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন এবং জনস্বার্থে কী কী বড় ঘোষণা আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে, এখন দেখার সোমবাসরীয় এই ব্যস্ত সূচি শেষে বাংলার জন্য ঠিক কী সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।