শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ নেতাকে ঝাঁঝরা করল আততায়ীরা! খুনের নেপথ্যে ওএলএক্স (OLX) রহস্য?

বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপ কমতে না কমতেই ফের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। এবার টার্গেট রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল এই বিজেপি নেতাকে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠছে, তেমনই খুনের ছক সাজাতে অপরাধীদের অদ্ভুত কায়দা দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে দুঁদে তদন্তকারীদেরও।
সিনেমার কায়দায় মাঝরাস্তায় হামলা
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রাম এলাকায় নিজের গাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ বাবু। অভিযোগ, মাঝরাস্তায় একটি গাড়ি তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। সেমি-অটোমেটিক পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেদ করে সরাসরি বিদ্ধ হয় নেতার শরীরে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, তাঁর শরীরে তিনটি গুলির ক্ষত পাওয়া গিয়েছে এবং হামলাকারীরা ৭.৬ বোরের অত্যাধুনিক পিস্তল ব্যবহার করেছিল।
শিলিগুড়ি কানেকশন ও নম্বর প্লেটের ধাঁধা
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ একটি পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধার করে, যেটিতে চড়ে হামলাকারীরা এসেছিল। গাড়িটির নম্বর প্লেট পরীক্ষা করতেই অবাক হন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, ওই নম্বরটি শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকার বাসিন্দা জোসেফ উইলিয়ামস নামে এক ব্যক্তির গাড়ির। তাৎক্ষণিক তদন্তে পুলিশ শিলিগুড়িতে যোগাযোগ করলে জোসেফ জানান, তাঁর গাড়িটি গ্যারেজেই রাখা আছে।
তাহলে উত্তর ২৪ পরগনার ঘটনাস্থলে একই নম্বরের গাড়ি এল কোথা থেকে? তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জোসেফ সম্প্রতি তাঁর গাড়িটি বিক্রির জন্য OLX-এ বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেখানে গাড়ির নম্বর ও ছবি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পুলিশের অনুমান, খুনিরা সেখান থেকেই ওই নম্বর সংগ্রহ করে এবং একই মডেল ও রঙের গাড়িতে ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার করে অপারেশন চালায়। যাতে পুলিশের নজর ঘোরানো যায় এবং আসল অপরাধীদের ধরা কঠিন হয়।
তদন্তে সিআইডি ও ফরেনসিক দল
বৃহস্পতিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সিআইডি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এলাকাটি থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, “পুরো বিষয়টি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনিরা যে পেশাদার এবং এলাকাটি আগে থেকে রেইকি করেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ নেতার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই খুনের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক শত্রুতা রয়েছে নাকি এর পিছনে অন্য কোনো পুরনো বিবাদ কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে নম্বর প্লেটের এই জালিয়াতি দেখে স্পষ্ট যে, খুনিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই নীল নকশা তৈরি করেছিল। এখন দেখার, ওএলএক্স সূত্রের এই সূত্র ধরে কত দ্রুত আসল অপরাধীদের নাগাল পায় প্রশাসন।