ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি! কেন ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামই পাখির চোখ আমেরিকার?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক চুক্তির রশি টানাটানি এবার চরমে। ৪৪০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটছেই না। এরই মধ্যে বেইজিংয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা কূটনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই ইউরেনিয়াম তিনি কোনো সামরিক কারণে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মার্কিন দাপট ও ‘জনসংযোগ’ (Public Relations) বৃদ্ধির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চান।

ইউরেনিয়াম কেন প্রয়োজন? ট্রাম্পের জবাব
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল—কেন ইরান থেকে এই ইউরেনিয়াম নিতেই হবে? ট্রাম্পের সপাটে উত্তর, “আমি এটি জনসংযোগের জন্য চাই।” তিনি বিশ্বকে দেখাতে চান যে, তাঁর নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক হুমকি থেকে মুক্ত করেছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “ইরানের ওপর আমাদের কড়া নজর রয়েছে। তাদের বর্তমান ইউরেনিয়াম আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। আমরা তো বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে তা একপ্রকার ‘পুঁতে’ ফেলেছি। ইরান তা তুলতে পারবে না, কিন্তু আমরা চাই ওটা আমাদের হাতে আসুক।”

ব্যয় নয়, নিরাপত্তাই শেষ কথা: রুবিও
এদিকে এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ১০০ বা ২০০ বিলিয়ন ডলারের খরচ কোনো বড় বিষয় নয়। কারণ ইরান যদি একবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলে, তবে তাকে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তখন কি কেউ হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রুখতে পারবে? মধ্যপ্রাচ্যকে কি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে?”

১৪-দফার গেরোয় বন্দি চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪-দফা প্রস্তাবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা তেহরানেই তাদের ইউরেনিয়াম পরিশোধন করবে এবং প্রয়োজনে কোনো তৃতীয় দেশে তা পাঠাতে রাজি। কিন্তু ওয়াশিংটন চাইছে সরাসরি ইউরেনিয়াম সরবরাহ। এই গোঁয়ার্তুমির কারণেই কার্যত ঝুলে রয়েছে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধৈর্য যে ক্রমশ বাঁধ ভাঙছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, তেহরান কি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার ‘জনসংযোগ’-এর স্বার্থে নিজেদের সম্পদ তুলে দেয়, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আরও তপ্ত হয়ে ওঠে।