‘অভিষেকের সেই থ্রেটই সত্যি হল’! তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ চন্দ্রনাথের মায়ের!

“আমি একজন মা, তাই ঘাতকদের ফাঁসি চাই না। ওরা সারাজীবন জেল খাটুক, ধুঁকে ধুঁকে মরুক—এটাই আমার প্রার্থনা।” মধ্যমগ্রামে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া বিজেপি নেতা তথা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মায়ের এই আর্তনাদ এখন রাজ্য রাজনীতির বাতাসে বিষাদ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার রাতের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে রথ পরিবারের ভিটে এখন শ্মশানের মতো স্তব্ধ।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, আততায়ীরা অত্যন্ত পেশাদারভাবে হামলা চালিয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে অত্যন্ত কাছ থেকে দুটি গুলি চালানো হয়। বুলেটের আঘাতে বুক ফুঁড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। টিভিপর্দায় মেজ ছেলের ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা হাসিরানি দেবী। এক আত্মীয়র কথায়, “রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিউজ চ্যানেলে ছবি দেখে বুকটা কেঁপে উঠেছিল। প্রতিবেশীরা নিজেদের গাড়ি নিয়ে রাতেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।”
তৃণমূলকে সরাসরি তোপ হাসিরানি দেবীর:
ছেলের অকালমৃত্যুর জন্য সরাসরি শাসকদলের উস্কানিমূলক রাজনীতিকে দায়ী করেছেন চন্দ্রনাথের মা। তাঁর অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের প্রভাবশালী একাংশের দিকে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকেই শাসকদলের নেতারা হুমকি দিচ্ছিলেন যে দিল্লির বাবারা বাঁচাতে আসবে না। আজ ওরা সেটাই সত্যি করে দেখাল।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই তাঁদের পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছিল। এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
বিস্ফোরক কৌস্তভ বাগচী:
এই ঘটনায় বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের হতাশা থেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা হিংসাত্মক হয়ে উঠেছেন। কৌস্তভের দাবি, “এই খুন আসলে শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। কার্যত বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর এভাবেই স্তব্ধ করা হবে।”
রাজ্য রাজনীতির এই উত্তপ্ত আবহে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু এবং তাঁর মায়ের অভিশাপ—সব মিলিয়ে সরগরম বাংলা। প্রশাসন এখন ঘাতকদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।